

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলের এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল লুকা মদ্রিচের বিদায়ের মধ্য দিয়ে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ পর্তুগালের কাছে ২-১ গোলে হারের পর জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলেন ৪০ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি মিডফিল্ডার।
ম্যাচ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেন তিনি।
টরন্টোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমতায় ফেরার লড়াই চালিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ইনজুরি টাইমে জোসকো গভার্দিওলের করা গোল ভিএআরে অফসাইডের কারণে বাতিল হলে শেষ হয়ে যায় তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।
শেষ বাঁশি বাজার পর হতাশায় নত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন মদ্রিচ, যেন দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের স্মৃতিগুলো একে একে ফিরে আসছিল।
ক্রোয়েশিয়ার জার্সিতে মদ্রিচ খেলেছেন ২০১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং করেছেন ২৯টি গোল। তবে সংখ্যার চেয়ে তার অবদান অনেক বড়। অসাধারণ নেতৃত্ব, মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা এবং কঠিন মুহূর্তে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলের প্রাণভোমরা।
যুদ্ধবিধ্বস্ত শৈশব পেরিয়ে বিশ্বসেরাদের কাতারে উঠে আসা মদ্রিচ ২০১৮ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে তুলেছিলেন। যদিও শিরোপা জেতা হয়নি, তবু পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত নৈপুণ্যের জন্য জেতেন গোল্ডেন বল। একই বছর ব্যালন ডি'অর জিতে দীর্ঘদিনের লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আধিপত্য ভেঙে দেন তিনি।
২০২২ বিশ্বকাপেও তার নেতৃত্বে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ক্রোয়েশিয়া। আর ২০২৬ বিশ্বকাপ ছিল তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম বিশ্বকাপ। ৪০ বছর বয়সেও দলের চারটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি। শেষ ম্যাচেও ৬৬ বার বল স্পর্শ, তিনটি সফল ট্যাকল এবং একাধিক আক্রমণাত্মক পাস দিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ রাখেন।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন এক দৃশ্যের জন্ম দেন পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দীর্ঘদিনের সাবেক ক্লাব সতীর্থকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন তিনি। পরে রোনালদো বলেন, “মদ্রিচ ফুটবল ইতিহাসের একজন কিংবদন্তি। তার সঙ্গে বহু বছর খেলতে পেরে আমি গর্বিত। ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য তার প্রতি রইল শুভকামনা।”
তবে মদ্রিচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সত্যিই শেষ কি না, সে বিষয়ে সামান্য আশার কথা শুনিয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার প্রধান কোচ জ্লাতকো দালিচ। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “হয়তো এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। কিন্তু আগামী চার বছরে কী হবে, তা কেবল ঈশ্বরই জানেন। দেশে ফিরে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করব।”
দালিচ আরও বলেন, “মদ্রিচ আবারও দেখিয়েছে কেন সে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছে। এমন একজন কিংবদন্তির বিদায় এভাবে হওয়ায় কষ্ট লাগছে।”
প্রতিপক্ষ কোচ রবার্তো মার্টিনেজও মদ্রিচের প্রশংসা করে বলেন, “এত দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পরও সে এমনভাবে খেলে, যেন একজন তরুণ ফুটবলার। খেলার পরিস্থিতি বুঝে মুহূর্তেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তার রয়েছে।”
ক্লাব ফুটবলেও মদ্রিচের অর্জন ঈর্ষণীয়। ডায়নামো জাগরেব, টটেনহ্যাম হটস্পার এবং সর্বোপরি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা। রিয়ালের জার্সিতে ছয়টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও চারটি লা লিগা শিরোপা জয়ের পাশাপাশি সর্বশেষ মৌসুমে খেলেছেন এসি মিলানের হয়ে।
তবে ক্লাবের সাফল্যের চেয়েও জাতীয় দলের জার্সিতেই সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে লুকা মদ্রিচের নাম। বিশ্বকাপের রানার্সআপ, তৃতীয় স্থান, গোল্ডেন বল ও ব্যালন ডি'অরের মতো অর্জনের পাশাপাশি তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন এমন একজন নেতা হিসেবে, যিনি ছোট্ট একটি দেশকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সম্মানিত শক্তিতে পরিণত করতে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন।


