

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনুসের উত্তর-পূর্বে আল-কারারা শহরে ‘ইসরায়েলি’ বাহিনীর গুলিতে গত সোমবার নিহত হয়েছেন ৩২ বছর বয়সী গোলরক্ষক সেলিম খাদের আল-আশকার। তিনি ‘খাদামাত খান ইউনুস’ ক্লাবের হয়ে গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং সংবাদ সংস্থা ওয়াফা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই এলাকায় অবস্থানকালে তিনি সরাসরি হামলার শিকার হন।
সেলিম খাদের আল-আশকার তার ফুটবল ক্যারিয়ারে গাজার আল-আকসা এবং আল-মুসাদ্দার স্পোর্টস ক্লাবের হয়েও মাঠ মাতিয়েছেন।
মাত্র পাঁচ মাস আগে বিয়ে করেছিলেন সেলিম। তিনি শীঘ্রই তার প্রথম সন্তানের মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন।
সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন একমাত্র পুত্রসন্তান, যার ফলে তার এই অকাল মৃত্যু পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় শোকের পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেলিমের মৃত্যু ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনের এক ভয়াবহ পরিসংখ্যানকে আরও দীর্ঘ করল।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১,০০৯ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৬৭ জনই ফুটবলের সাথে যুক্ত।
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জমজমাট আসর চলছে। টুর্নামেন্টটি এখন নকআউট পর্বের রোমাঞ্চকর ধাপে রয়েছে।
সারা বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক যখন অত্যাধুনিক স্টেডিয়ামগুলোতে বসে ফুটবলের আনন্দ উপভোগ করছেন, তখন গাজার ফিলিস্তিনিরা বিদ্যুৎহীন অন্ধকার, বারবার বাস্তুচ্যুতি আর অবিরত বোমাবর্ষণের কারণে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো দেখার ন্যূনতম সুযোগটুকুও পাচ্ছেন না।
ফিলিস্তিনি ক্রীড়া কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণমাধ্যম সেলিম আশকারকে চলমান আগ্রাসনের আরও একজন শিকার হিসেবে বর্ণনা করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। খান ইউনুসে তার জানাজার সময় স্থানীয়রা খেলার মাঠের চাকচিক্যের আড়ালে গাজার এই মানবিক বিপর্যয়ের দিকে বিশ্ববাসীর মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।


