

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হয়েছে। তবে নতুন বেতন কাঠামো চালু হলেও বর্ধিত বেতন কবে থেকে ব্যাংক হিসাবে জমা হবে—এ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা ও প্রশ্ন রয়েছে।
যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, গেজেট প্রকাশ এবং হিসাব সমন্বয়ের ধাপ শেষ হওয়ার পরই নতুন হারে বেতন কার্যকরভাবে প্রদান শুরু হবে। কর্মকর্তাদের মতে, পে স্কেল কার্যকর ঘোষণার দিন থেকেই কাঠামো কার্যকর হলেও বাস্তবে অর্থ প্রাপ্তিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, গেজেট জারি ও সফটওয়্যারভিত্তিক হিসাব সমন্বয় সম্পন্ন হলে বকেয়াসহ নতুন বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হবে।
এর আগে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন।
সরকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় একই বেতন কাঠামো বহাল থাকায় সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নবম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বিভিন্ন পর্যায়ে বেতন পুনর্নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে চূড়ান্তভাবে এসব সুপারিশ কতটা বাস্তবায়ন হবে, তা নির্ভর করবে সরকারি গেজেট ও বাস্তবায়ন কাঠামোর ওপর।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে মূল বেতন ও ভাতার বিষয়টি পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে মূল বেতন এক ধাপে সমন্বয়ের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতার সমন্বয় পরবর্তী ধাপে করা হতে পারে।
সরকার এ খাতে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে, যা সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ে ব্যবহৃত হতে পারে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। তাদের বেতন ও পেনশন বাবদ সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
নতুন পে স্কেল কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি আনলেও অর্থনীতিবিদদের মতে এর সামষ্টিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, বেতন বৃদ্ধি ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে, তবে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ ঠিক না থাকলে নিত্যপণ্যের দামে চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
