

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব, অভিনেত্রী ও নির্দেশক বিজয়া মেহতা আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন বিজয়া মেহতা। অসুস্থতার মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়। তার প্রয়াণে ভারতীয় নাট্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বিজয়া মেহতার মৃত্যুতে নাট্য ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্টজনরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ভারতীয় আধুনিক নাট্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
মারাঠি থিয়েটারের আধুনিক ধারার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বিজয়া মেহতা। তিনি ‘রঙ্গায়ন’ নাট্যআন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এবং মঞ্চনির্দেশনা ও নাট্য উপস্থাপনায় নতুন ভাবনার প্রবর্তক হিসেবে বিশেষভাবে সমাদৃত। তার নেতৃত্বে ‘রঙ্গায়ন’ ভারতীয় আধুনিক নাট্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
নাট্যনির্দেশনার পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। তার পরিচালিত ‘রাও সাহেব’ (১৯৮৬) এবং ‘পেস্টনজি’ (১৯৮৮) সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। এছাড়া ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পার্টি’ চলচ্চিত্রে তার অভিনয়ও ভারতীয় সিনেমার উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্সগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিজয়া মেহতা নিজের দীর্ঘ শিল্পজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন আত্মজীবনী ‘ঝিম্মা’-তে। নাট্যবোদ্ধাদের মতে, এটি শুধু একজন শিল্পীর আত্মকথা নয়, বরং মারাঠি থিয়েটারের বিকাশ ও ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বইটির জন্য তিনি মহারাষ্ট্র সাহিত্য পরিষদের লক্ষ্মীবাঈ তিলক পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননা লাভ করেন। পাশাপাশি ভারতীয় নাট্যাঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সংগীত নাটক একাডেমি পুরস্কারেও ভূষিত হন।
