

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটার অভিজাত এলাকা এল চিকোর একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে জনপ্রিয় মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার নাতালিয়া ভিয়ালবা (৩৬)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একটি স্যুটকেসের ভেতরে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৩ জুন তিনি ওই অ্যাপার্টমেন্টে ওঠেন এবং ২১ জুন তার চেক-আউট করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর ২২ জুন এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে স্যুটকেসের ভেতরে মরদেহটি দেখতে পান। এরপরই ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তের একপর্যায়ে ৪৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক ম্যাথিউ অ্যাশলি ফস্টার-স্মিথকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৬ জুন কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানায়, তার বিরুদ্ধে নারী হত্যা (ফেমিসাইড) এবং আলামত নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, নাতালিয়া একা থাকার সুযোগে ফস্টার-স্মিথ অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে ঘটনাটি গোপন করার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামতও বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ।
সন্দেহভাজনকে ধরতে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে অভিযান চালায়। বোগোটার মেয়র কার্লোস এফ. গালান জানান, গত ২৬ জুন ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফস্টার-স্মিথকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য সান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফস্টার-স্মিথ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ইংল্যান্ডের ফুটবল ম্যাচ দেখছিলেন। ম্যাচ শেষে একটি শপিং সেন্টারে গিয়ে ঘোরাঘুরি করেন, আইসক্রিম খান ও পরে আবার খেলা দেখতে ফিরে যান।
গ্রেপ্তারের পর ফস্টার-স্মিথের অতীত অপরাধের তথ্যও সামনে এসেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে অনুসরণ ও হয়রানির (স্টকিং) অপরাধে তিনি দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগ করেন। মুক্তির পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে একটি হয়রানি প্রতিরোধ আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশ অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা নিষিদ্ধ ছিল। পাশাপাশি নিজের ঠিকানা ও ব্যবহৃত যানবাহনের তথ্য নিয়মিত পুলিশকে জানাতে হতো।
এদিকে নাতালিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত এখনো চলছে। হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনা কলম্বিয়ায় নারীর প্রতি সহিংসতা, বিশেষ করে বিদেশি নাগরিক ও স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: মিরর ইউএস
