

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের কাছে ফুটবলের জাদুকরী নান্দনিকতার কথা বললে সবার আগে চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঠের তারকা খেলোয়াড়দের কথা। কিন্তু মাঠের সেই গোলপোস্টের ভেতরে আছড়ে পড়া বলটির জন্ম কোথায়, তা অনেকেরই অজানা। বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে, বিশ্বের ফুটবল উৎপাদনের প্রকৃত প্রাণকেন্দ্র বা ‘ফুটবল ফ্যাক্টরি’ হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের শিয়ালকোট শহর। উত্তর-পূর্ব পাকিস্তানের এই শহরটি এখন বিশ্ব ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের মোট ফুটবলের প্রায় ৭০ শতাংশই তৈরি হয় শিয়ালকোটের কারখানাগুলোতে। প্রতিদিন প্রায় তিন লাখের বেশি ফুটবল এখান থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে পাড়ি জমায়। আর বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের বছরগুলোতে এই সংখ্যাটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য; বিশ্বকাপের মৌসুমে প্রায় চার কোটি ফুটবল রপ্তানি করে এই শহর।
মজার বিষয় হলো, পাকিস্তান ফুটবল দল এ পর্যন্ত কখনো ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। অথচ গত ৪৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিটি বিশ্বকাপ আসরের মাঠ কাঁপানো বলগুলোর জন্ম হয়েছে এই শিয়ালকোটে। বিশেষ করে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত শিয়ালকোটের ‘ফরোয়ার্ড স্পোর্টস’ কোম্পানিটি বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০১৪ সালের ব্রাজুকা, ২০১৮ সালের টেলস্টার ১৮, ২০২২ সালের আল রিহলা এবং ২০২৬ সালের আসরের ট্রায়ন্ডা; টানা চারটি বিশ্বকাপে ব্যবহৃত অফিশিয়াল ম্যাচ বল তৈরির দায়িত্ব পালন করেছে এই শহরের কারিগররা।
একদিকে, দেশের জাতীয় ফুটবল দলের বৈশ্বিক মঞ্চে না থাকার আক্ষেপ, অন্যদিকে বিশ্বের প্রতিটি বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকা; এই দ্বৈরথই শিয়ালকোটকে দিয়েছে এক অদ্ভুত পরিচয়। খেলার মাঠে হয়তো খেলোয়াড়দের পায়ের জাদুতে গোল আসে, কিন্তু সেই জাদুর কারিগর হিসেবে নেপথ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তানের এই শহর। ফুটবল বিশ্বের অঘোষিত এই ‘কারখানা’ তাই আজ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক অনন্য ও গর্বিত নাম।
