সোমবার
১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ম্যাচ হারার পর এবার জরিমানা গুনতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়াকে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটের পরাজয়ের ধাক্কা সামলানোর আগেই অস্ট্রেলিয়ার সামনে দেখা দিয়েছে আরও এক শঙ্কা। ধীরগতির ওভার রেটের কারণে প্যাট কামিন্সের দলের খেলোয়াড়দের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। একই সঙ্গে কাটা যেতে পারে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টও।

ডারউইনে ম্যাচের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের কাছে হেরে যায় অস্ট্রেলিয়া। এর আগে দ্বিতীয় দিনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৯০ ওভার শেষ করতে পারেনি স্বাগতিকেরা। ওই দিন মোট ৮৬ ওভার বোলিং করে অস্ট্রেলিয়া, অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে চার ওভার কম।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউজ ডটকম অস্ট্রেলিয়া দলের এমন পারফরম্যান্সকে ‘হরর শো’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্লো ওভার রেটের বিষয়টি আইসিসির নজরে রয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের জরিমানার সম্ভাবনা আছে।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, টেস্টে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ ওভার করে শেষ করার লক্ষ্য থাকে। সে হিসাবে দিনে ৯০ ওভার সম্পন্ন করার কথা। নির্ধারিত ওভার রেটের চেয়ে পিছিয়ে পড়লে প্রতি কম ওভারের জন্য একজন খেলোয়াড়ের ম্যাচ ফির সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ জরিমানা হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের একজন খেলোয়াড় ম্যাচপ্রতি ২০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পান। এর ৫ শতাংশ ১ হাজার ডলার। চার ওভার ঘাটতির ক্ষেত্রে একজন খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ জরিমানা হতে পারে ৪ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার। ১১ সদস্যের পুরো দলের ক্ষেত্রে অঙ্কটি দাঁড়াতে পারে ৪৪ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

তবে জরিমানা হবেই, এমনটা এখনই নিশ্চিত নয়। ম্যাচ রেফারি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক বিবেচনা করতে পারেন। এর মধ্যে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, উইকেট পতনসহ ম্যাচের পরিবেশগত বিষয়ও রয়েছে। ডারউইনের প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের জন্য শাস্তি কমার বা এড়ানোর কারণ হতে পারে।

তবে আর্থিক শাস্তির চেয়েও বড় দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে ডব্লিউটিসির পয়েন্ট হারানো। নিয়ম অনুযায়ী, ওভার রেটের ঘাটতির কারণে পয়েন্ট কেটে নেওয়ার বিধান রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চার পয়েন্ট হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে ৮৪ পয়েন্ট এবং ৭৭.৭৮ শতাংশ জয় নিয়ে ডব্লিউটিসির পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে কয়েকটি পয়েন্ট হারালেও ভবিষ্যতের হিসাব-নিকাশে তার প্রভাব পড়তে পারে।

ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশও একসময় নির্ধারিত ওভার রেটের তুলনায় পিছিয়ে ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শাস্তির প্রশ্ন ওঠেনি। কারণ, অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ৫৩ ওভারে অলআউট করে দিয়েছিল বাংলাদেশ।

আইসিসির নিয়মে কোনো দল ৮০ ওভার ব্যাট করার আগেই অলআউট হয়ে গেলে ধীরগতির ওভার রেটের শাস্তি থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৬০ ওভারের কম খেলে কোনো দল অলআউট হলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই শাস্তি প্রযোজ্য হয় না। গত অ্যাশেজেও এই নিয়মের সুবিধা পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

ডারউইন টেস্টে অবশ্য সেই সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই কামিন্সদের। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ১৩৮ ওভার স্থায়ী হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার ওভার রেটের ঘাটতি এখন শাস্তির আওতায় আসতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য এমন শাস্তির নজির অবশ্য নতুন নয়। ২০২০ সালের বক্সিং ডে টেস্টে ধীরগতির ওভার রেটের কারণে তাদের চার ডব্লিউটিসি পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই পয়েন্টের ঘাটতি ২০২১ সালের ডব্লিউটিসি ফাইনালে ওঠার সমীকরণেও প্রভাব ফেলেছিল। ফলে বাংলাদেশের কাছে মাঠের পরাজয়ের পর এবার মাঠের বাইরের শাস্তির আশঙ্কাও অস্ট্রেলিয়ার জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঘটনাপ্রবাহ: বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ ২০২৬
X
City bank
City bank