

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামে ব্যাটিং বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলাতে পারেনি বাংলাদেশ। স্বল্প পুঁজি নিয়ে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় অধরা থেকে গেছে টাইগারদের। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেটের জয়ে সিরিজে শুভসূচনা করেছে সফরকারীরা।
টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তবে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। কোনো ব্যাটারই বড় ইনিংস খেলতে না পারায় ১৯ ওভারে ১৩১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন শেখ মেহেদী হাসান।
১৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। দলীয় ১৩ রানে জশ ইংলিসকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম। এরপর মিচেল মার্শও মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার হলেও পাওয়ার প্লেতে ৪৭ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় সফরকারীরা।
ওয়ানডে সিরিজের দুর্দান্ত ফর্ম টি-টোয়েন্টিতেও ধরে রাখেন কুপার কনোলি। বাঁহাতি এই ব্যাটার ২৭ বলে ৪৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে জয়ের ভিত গড়ে দেন। যদিও ফিফটি থেকে বঞ্চিত হন তিনি, তবে দলের জয়ে ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তাকে ফিরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম উইকেটের স্বাদ পান অভিষিক্ত আবদুল গাফফার সাকলাইন।
মাঝে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। শেখ মেহেদীর বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে টিম ডেভিড আউট হন, পরে রিশাদ হোসেন ফেরান অভিষিক্ত নিখিল চৌধুরীকে। এছাড়া ম্যাথিউ রেনশোকেও সাজঘরে পাঠান সাকলাইন। তবে এসব সাফল্য কেবল ব্যবধান কমিয়েছে, ম্যাচের ফল বদলাতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত ১০ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের হয়ে দুটি উইকেট নেন আবদুল গাফফার সাকলাইন। এছাড়া একটি করে উইকেট পান শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, শেখ মেহেদী হাসান ও রিশাদ হোসেন।
এর আগে দেশের ১৩তম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বে মাঠে নামে বাংলাদেশ। যদিও চট্টগ্রামে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি টাইগাররা। শুরুতে দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান রানের দেখা পেলেও সেটা বড় হয়নি। বরং আচমকা ব্যাটিং ব্যর্থতায় ডুবেছে বাংলাদেশ।
দলীয় ২৬ রানের মাথায় বিদায় নেন ওপেনার তানজিদ তামিম। সাইফ কাটা পড়েন ৩৯ রানে। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর অধিনায়ক হৃদয়, সৌম্য, ইমন ও শামীম কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। এক প্রান্তে উইকেট পতনের মিছিল চলতে থাকায় রান তোলার গতি যেমন কমেছে, তেমনি বড় জুটির অভাব ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে।
মাঝের ওভারগুলোতে অজি স্পিনাররা চাপ তৈরি করে টাইগারদের ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত ছন্নছাড়া করে দেন। তাতে ৭৮ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়েন হৃদয়রা। এরপর অভিষিক্ত সাকলাইন একটি ছক্কা হাঁকিয়ে কিছুটা আশা জাগালেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
রিশাদ হোসেনও দ্রুত ফিরে গেলে ১০০ রানের আগেই ৮ উইকেট হারানোর লজ্জায় পড়ে স্বাগতিকরা। একসময় পুরো ২০ ওভার খেলা নিয়েও দেখা দেয় শঙ্কা। শেষদিকে শেখ মেহেদী হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের নিয়ে ইনিংস টেনে নেওয়ার পাশাপাশি দলের সংগ্রহও বাড়ান তিনি।
মেহেদীর অপরাজিত ২৯ রানের ইনিংস এবং মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের ছোট অবদান বাংলাদেশকে তিন অঙ্কের ঘর পেরোতে সাহায্য করে। তবে সেটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ গড়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১৩১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। তিন উইকেট শিকারের পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১৫০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। সমান তিনটি উইকেট নেন জুয়েল ডেভিস। এছাড়া রেনশো দুই, আর নিখিল ও জনসন শিকার করেন একটি করে উইকেট।
