

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা বলেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমাকে মঞ্চে কথা বলতে দেখলেই আমার মেরুদণ্ডটা একটু সোজা হয়ে যায়।’
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
পোস্টে তাসনিম জারা লিখেন, ‘নতুন বাংলাদেশের কথা ভাবলে যাদের মুখ তার কাছে ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠে, উমামা তাদের অন্যতম।’
তিনি আরও লিখেন, ‘চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর উমামা ফাতেমা, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম এবং এনসিপি বগুড়া জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী প্রয়াত রাফিয়া সুলতানা রাফির একটি সাক্ষাৎকার দেখেছিলাম। আন্দোলনের দিনগুলোতে, তাদের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে সেই সাক্ষাৎকার আমাদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।’
এনসিপির সাবেক এ নেত্রী লিখেন, ‘আমার রাজনীতিতে আসার পেছনে যে কয়েকটি ধাক্কা কাজ করেছে, ওই সাক্ষাৎকারটি ছিল তার একটি।’
দেশে ফেরার পর উমামা ফাতেমার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমি রীতিমতো স্টারস্ট্রাক হয়ে গিয়েছিলাম। সামনাসামনি ও আরও সহজ। কোনো পারফরম্যান্স নেই। যা বিশ্বাস করে, তা-ই বলে; আর যা বলে, তা-ই করে।’
তাসনিম আরও লেখেন, নতুন রাজনীতিতে আসা মানুষের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো নিজের নৈতিক অবস্থান অটুট রাখা। প্রতিদিনের সিদ্ধান্ত, চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে এমন কিছু মানুষের প্রয়োজন হয়, যাদের বিচার-বিবেচনার ওপর ভরসা করা যায়। তার মতে, উমামা ফাতেমা সেই মানুষদের একজন।
পোস্টে তাসনিম জারা দাবি করেন, গত দুই বছরে উমামা ফাতেমা নিজের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হওয়া প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ডাকসু নির্বাচনে কোনো দলের সমর্থন ছাড়াই স্বতন্ত্র প্যানেল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
তিনি লেখেন, ‘উমামার কাছে ক্ষমতার পথ খোলা ছিল। চাইলে সে যেতে পারত। কিন্তু সে যায়নি। কারণ হাতের নাগালের ক্ষমতাকেও সে “না” বলতে পেরেছে।’
রাজনৈতিক সফলতার ধারণা নিয়েও মন্তব্য করে তাসনিম জারা লিখেন, ‘অনেকেই এমপি হওয়াকেই সফলতার একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখেন। কিন্তু প্রকৃত প্রশ্ন হলো, কীভাবে সেই অবস্থানে যাওয়া হলো এবং সেখানে গিয়ে মানুষের জন্য কী করা হলো।’
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘কেউ কেউ উমামাকে মঞ্চে কথা বলতে দেখলে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। আর ওকে মঞ্চে কথা বলতে দেখলে আমার মেরুদণ্ডটা একটু সোজা হয়ে যায়।’
হোয়াংহো নদীর উপমা টেনে তাসনিম জারা আরও লেখেন, ‘যে নদীকে অনেকে দুঃখ বলে, সেই নদীর পলিমাটিতেই চীনা সভ্যতার জন্ম। নতুন বাংলাদেশের কথা চিন্তা করলে যাদের চেহারা ভরসার প্রতীক হয়ে আমার মানসপটে ভেসে ওঠে, তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন উমামা ফাতেমা।’