

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


এনআইসিইউর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর মিছিল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সংকট স্বাস্থ্যখাতের এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ৭টা ৫০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালগুলোতে এনআইসিইউ সাপোর্ট বা শিশুদের ক্রিটিক্যাল ট্রিটমেন্ট সুবিধা একেবারেই অপ্রতুল। সামান্য অসুস্থতায় রোগীদের ঢাকায় ছুটে আসতে হয়, যা এক দুঃখজনক বাস্তবতা।’
দিন দিন শিশুদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে বলে জানান শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘খুব অল্পতেই আমাদের সন্তানরা নানা ধরনের ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তারা একদিকে কৃত্রিম ও অপ্রাকৃতিক জীবনধারায় বড় হচ্ছে, দিনদিন উন্নতির নামে প্রকৃতি ও মাটির সাথে অনেকটাই সম্পর্কহীন হয়ে যাচ্ছে, ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অপরদিকে পশ্চিমা সংস্কৃতির থাবায় মা-বাবার যথাযথ যত্ন থেকে তারা অনেকাংশে বঞ্চিত হচ্ছে।’
অনেক শিশু শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে বেড়ে উঠছে বলে জানান তিনি। কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, তারা কাজের লোকের হাতে বা ডে কেয়ারে বড় হচ্ছে।
ক্ষতিকর সব কিছুকে মানুষ আপন করে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিজাতীয় অপসংস্কৃতির প্রভাব ও উদাসীনতার কারণে স্পিরিচুয়াল (আধ্যাত্মিক) দিক থেকেও আমাদের পরিবারগুলো দুর্বল এবং অনিরাপদ হয়ে পড়ছে। দিন দিন আমল, দোয়া, তাওয়াক্কুল সব কিছু আমাদের থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিকর সব কিছুকে আমরা আপন করে নিয়েছি। আমাদের উচিত নিজেদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সচেষ্ট হওয়া।’
হামের বিষয়ে অভিভাবকদের বিশেষ সর্তকতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘হামের চলমান যে সংকট তৈরি হয়েছে, এর জন্য অন্যান্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অভিভাবকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। আগে থেকেই পুষ্টিকর খাবার ও প্রকৃতির স্পর্শে বেড়ে ওঠার ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। আপনার সন্তানের মাঝে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন, বিচলিত না হয়ে দোয়া ও আশ্রয়ের মাধ্যমে ধৈর্য ধারণ করুন। মহান আল্লাহ আমাদের সন্তানদের সব ধরনের ব্যাধি থেকে হেফাজত করুন। আমিন।’
