

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জুলাই গণহত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশে না থাকলেও তার সৃষ্ট রাজনীতি রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। শেখ হাসিনার রাজনীতির কিছু মূলমন্ত্র তার পতনের আন্দোলনের মানুষদেরও কেউ কেউ এখনও ধারণ করে আছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
আজ রবিবার (৮ মার্চ) দুপুর ২টা ২২ মিনিটে ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেছেন তিনি।
‘শেখ হাসিনার রাজনীতি’ শিরোনামে দেওয়া পোস্টটিতে আসিফ নজরুল লিখেছেন, শেখ হাসিনা দেশে নেই বহুদিন। কিন্তু সত্যিই কি নেই? আমার মনে হয় তিনি আছেন। শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তার রাজনীতিটা রয়ে গেছে বাংলাদেশে। তার রাজনীতির কিছু মূলমন্ত্র ধারণ করে আছে তার পতনের আন্দোলনের মানুষদেরও কেউ কেউ। কী ছিল তার রাজনীতি? আসিফ নজরুল তিনটি পয়েন্টে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। লিখেছেন-
এক: মালিকানার রাজনীতি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের মালিকানার রাজনীতি করতেন। তিনি আর তার অনুগতরাই কেবল যুদ্ধটা করেছেন, বাকি কেউ না। তাই তার পক্ষে থাকা মানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকা, তার বিরোধিতা মানে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা। যে কাজ পক্ষের মানুষের জন্য জায়েজ, তা অন্যর জন্য শাস্তিযোগ্য। জুলাইকে কেন্দ্র করে আছে এই রাজনীতি আছে কিছু মানুষের মধ্যে।
দুই: ট্যাগ দেওয়ার রাজনীতি। কথায় কথায় রাজাকার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, পাকিস্তানপন্থী ছিল তার রাজনীতির অন্যতম হলমার্ক। এসব ট্যাগ বদলিয়েছে, কিন্তু এর রাজনীতিটা রয়ে গেছে। এখন চলছে যত্রতত্র ফ্যাসিস্টের দোসর, ভারতের দালাল, জুলাই গাদ্দার— এসব ট্যাগ দেওয়ার রাজনীতি। বছরের পর বছর আওয়ামী লীগের হাতে নির্যাতিত কেউ এই ট্যাগ পাচ্ছেন ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মীর কাছে।
তিন: ভিকটিমহুডের রাজনীতি: ভিকটিম ছিলাম বলে শিকারি হয়ে যাওয়ার অধিকারবোধ ছিল শেখ হাসিনার আরেক রাজনীতি। এই রাজনীতিও টিকে আছে বহাল তবিয়তে।
সাবেক উপদেষ্টা লিখেছেন, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আমরা শুধু শেখ হাসিনার শাসন অবসানের আন্দোলন করেছি। কিন্তু তার রাজনীতির অনেকটা নিজের ভেতর রেখে দিয়েছি।
মন্তব্য করুন
