

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভোলার মনপুরায় ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ব্যবসা এবং উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের প্রায় শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে 'ইনসাফ মার্কেটিং কোম্পানি লিমিটেড'-এর বিরুদ্ধে। বিপুল অর্থ সংগ্রহের পর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান, স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষক মহিবুউল্যাহ ও তার সহযোগীরা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। এই ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার কয়েক হাজার ভুক্তভোগী গ্রাহক।
নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মনপুরার বিভিন্ন এলাকায় এই প্রতারণা চক্রটি সক্রিয় ছিল। তাদের মূল কৌশলগুলো ছিল: ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ব্যবসা পরিচালনার কথা বলে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা হতো।
শেয়ার সদস্য ভর্তি ফরমের মাধ্যমে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে তাদের হাতে শেয়ার সনদ পত্র ও অর্থ জমার পাশ বই দেওয়া হতো। গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসিক, ত্রৈমাসিক ও বাৎসরিক কিস্তিতে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত সংগ্রহ করা হতো। মূলত এলাকার সহজ-সরল কৃষক, শ্রমিক, প্রবাসী এবং নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ এখানে বিনিয়োগ করেছিলেন।
এই বিশাল প্রতারণাযজ্ঞের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্থানীয় উপজেলার ফকিরহাট দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মহিবুউল্যাহ। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি এই অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বর্তমানে তিনি ও তার সহযোগীরা সম্পূর্ণ নিখোঁজ। নথিতে ব্যবহৃত দাপ্তরিক ঠিকানায় গিয়েও তাদের কোনো কার্যক্রম বা অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
ইসলামী ব্যবসার কথা বলে মানুষের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। টাকা হারিয়ে এখন কোথায় যাবেন, তা নিয়ে দিশেহারা তারা।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, সঠিক নজরদারির অভাব এবং উচ্চ মুনাফার ফাঁদে পড়ে বারবার সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। এই ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় এনে টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান কবির জানিয়েছেন, ‘ভুক্তভোগী গ্রাহকদের কাছ থেকে তারা একাধিক লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়েছে’। ‘এর প্রেক্ষিতে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রতারণার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে’।