

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া ইবাদত মৃত মুসলমানকে গোসল দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজে কিফায়া। অর্থাৎ সমাজের কিছু মানুষ এটি আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“তোমরা তোমাদের মৃতদের গোসল দাও, কাফন পরাও এবং ভালোভাবে দাফন করো।” (সুনানে আবু দাউদ)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, মৃতকে গোসল দেওয়া একটি সওয়াবের কাজ ও সামাজিক দায়িত্ব।
আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় চোখের লেন্স পরা যাবে কি?
ওজু ভাঙার মূল নীতি
শরিয়তে ওজু ভাঙার নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে—যেমন পেশাব-পায়খানা করা, বায়ু নিঃসরণ, ঘুম, অচেতন হওয়া ইত্যাদি।
শুধু কাউকে স্পর্শ করা বা গোসল করানো ওজু ভাঙার কারণ নয়, যদি শরীর থেকে কোনো নাপাক কিছু নিজের শরীরে না লাগে এবং কোনো নির্দিষ্ট ওজু ভঙ্গকারী কারণ না ঘটে।
এ বিষয়ে ফকিহদের মূলনীতি হলো:
“যে কাজের কারণে শরীর থেকে কিছু বের হয় না এবং ওজু ভঙ্গের কারণ সৃষ্টি হয় না, তা দ্বারা ওজু ভাঙে না।”
অধিকাংশ আলেমের মতে, মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিলে ওজু ভাঙে না। কারণ মৃতের শরীর স্পর্শ করা বা পানি ঢালার মাধ্যমে নিজের ওজু ভঙ্গের কোনো কারণ সৃষ্টি হয় না।
এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে,
হজরত ইবন আব্বাস (রা.) বলেন,
“মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া ওজু ভঙ্গকারী নয়।” (বায়হাকি)
আরও পড়ুনঃ রোজা রেখে মাথা ব্যথা হলে বাম বা মলম লাগানো যাবে কি?
আরেকটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“মৃত ব্যক্তিকে বহন করার কারণে তোমাদের ওপর গোসল ফরজ হয় না, আর তাকে গোসল দেওয়ার কারণে তোমাদের ওপর ওজু ফরজ হয় না।” (দারাকুতনি)
এই হাদিস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিলে ওজু ভাঙে না।
তবে একটি হাদিসে এসেছে,
“যে ব্যক্তি মৃতকে গোসল দেয়, সে যেন গোসল করে।” (আবু দাউদ, তিরমিজি)
এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, এটি ফরজ নয় বরং মুস্তাহাব বা উত্তম।
অর্থাৎ মৃতকে গোসল দেওয়ার পর নিজে গোসল করা ভালো ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য সুন্নত, কিন্তু তা বাধ্যতামূলক নয় এবং ওজু ভেঙে গেছে—এমন অর্থও নয়।
রোজা ভাঙে তখনই, যখন ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু মুখ বা নাক দিয়ে পাকস্থলীতে প্রবেশ করে, অথবা সহবাসের মতো রোজা ভঙ্গকারী কাজ হয়। মৃতকে গোসল দেওয়া এসবের অন্তর্ভুক্ত নয়।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“তোমরা খাও ও পান কর যতক্ষণ না ভোরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে পৃথক হয়ে যায়।” (সূরা বাকারা: ১৮৭)
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, রোজা ভাঙার সম্পর্ক খাওয়া-পান করা ও অনুরূপ কাজের সঙ্গে, মৃতকে গোসল দেওয়ার সঙ্গে নয়।
অতএব রোজা অবস্থায় মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিলে রোজা ভাঙে না।
কখন ওজু ভেঙে যেতে পারে -
যদি মৃতকে গোসল দেওয়ার সময় নিজের শরীর থেকে পেশাব-পায়খানা বের হয়, বা ঘুমিয়ে পড়ে,
আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় জিবরাঈল (আঃ) এর হাদিস ও রোজার শিক্ষা।
বা অন্য কোনো ওজু ভঙ্গকারী কারণ ঘটে, তাহলে ওজু ভেঙে যাবে। কিন্তু শুধুমাত্র মৃতকে গোসল দেওয়ার কারণে ওজু ভাঙে না।
আর যদি মৃতের শরীর থেকে কোনো নাপাক বস্তু (যেমন পায়খানা বা রক্ত) নিজের শরীরে লেগে যায়, তবে তা ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। তবে এটিও ওজু ভাঙার কারণ নয়, বরং শুধু নাপাকি দূর করার বিষয়।
রোজা অবস্থায় মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া একটি সওয়াবের কাজ এবং এতে ওজু বা রোজা নষ্ট হয় না। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস ও সাহাবিদের আমল থেকে প্রমাণিত যে এটি শরিয়তসম্মত এবং অনুমোদিত।
তবে পবিত্রতা বজায় রাখা, নাপাক বস্তু থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং প্রয়োজন হলে পরে ওজু বা গোসল করা উত্তম।
রমজান মাসে এমন সেবামূলক ইবাদত করা আল্লাহর কাছে আরও বেশি সওয়াবের কারণ হতে পারে।
মন্তব্য করুন

