বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোজা রেখে মাথা ব্যথা হলে বাম বা মলম লাগানো যাবে কি?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ইসলামী শরিয়তে রোজা ভাঙে তখনই, যখন ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বস্তু শরীরের ভেতরে স্বাভাবিক পথে (মুখ, নাক, গলা) প্রবেশ করানো হয় এবং তা খাদ্য বা ওষুধের অর্থ বহন করে।

বাহ্যিকভাবে শরীরে কিছু লাগানো—যেমন তেল, বাম, মলম, লোশন বা ক্রিম—এগুলো খাওয়া বা পান করার অন্তর্ভুক্ত নয়।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“তোমরা খাও ও পান কর যতক্ষণ না ভোরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে পৃথক হয়ে যায়।” (সূরা বাকারা: ১৮৭)

আরও পড়ুনঃ নাপাক অবস্থায় সেহরি খেলে কি রোজা হবে?

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, রোজা ভাঙে মূলত খাওয়া ও পান করার মাধ্যমে, বাহ্যিক ব্যবহারের মাধ্যমে নয়।

যা কিছু শরীরের ভেতরে (পাকস্থলীতে) প্রবেশ করে না, তা দ্বারা রোজা ভাঙে না।

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সা.) রোজা অবস্থায় মাথায় তেল ব্যবহার করতেন।” (সুনানে আবু দাউদ)

এই হাদিস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, রোজা অবস্থায় মাথায় তেল বা অনুরূপ বস্তু ব্যবহার করা জায়েজ। বাম বা মলম মূলত তেলেরই উন্নত রূপ।

তাই মাথা ব্যথার জন্য বাম বা মলম লাগানো শরিয়তসম্মতভাবে জায়েজ।

আরেকটি হাদিসে এসেছে,

“নবী (সা.) ব্যথা অনুভব করলে নিজের শরীরে চিকিৎসা করতেন।” (মুসলিম – অর্থগত বর্ণনা)

আরও পড়ুনঃ রোজা রেখে নখ কামড়ালে কি রোজা মাকরুহ হয়?

এ থেকে বোঝা যায়, ব্যথা উপশমের জন্য বাহ্যিক চিকিৎসা গ্রহণ করা ইসলামে অনুমোদিত।

অনেকে মনে করেন, বাম বা মলম ত্বকের ভেতর শোষিত হলে তা রোজা ভেঙে দেয়। ফিকহবিদদের মতে, চামড়া দিয়ে কোনো ওষুধ শোষিত হওয়াকে রোজা ভাঙার কারণ ধরা হয়নি।

কারণ এটি পাকস্থলীতে প্রবেশ করে না এবং খাওয়া-পান করার অর্থ বহন করে না।

ইমাম নববি (রহ.) বলেন,

“যদি কেউ শরীরে তেল বা মলম ব্যবহার করে এবং তা ত্বক দিয়ে শোষিত হয়, তবে এতে রোজা ভাঙে না।” (আল-মাজমু‘)

অতএব মাথায় বা কপালে বাম/মলম লাগালে রোজা নষ্ট হয় না।

যদিও বাম বা মলম লাগানো জায়েজ, তবে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রথমত, বাম বা মলমের তীব্র গন্ধ নাক দিয়ে টেনে ভেতরে নেওয়া যাবে না। ইচ্ছাকৃতভাবে নাকে বা গলায় প্রবেশ করানো হলে রোজা ভেঙে যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত

মলম লাগানোর পর হাত দিয়ে মুখে বা জিহ্বায় লাগিয়ে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

তৃতীয়ত,

অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত ব্যবহার না করাই উত্তম, কারণ রোজার মূল উদ্দেশ্য আত্মসংযম।

রোজা মানে শুধু খাবার ছাড়াই থাকা নয়, বরং সব ধরনের অনুচিত কাজ ও আসক্তি পরিহার করা।

আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় চোখের লেন্স পরা যাবে কি?

মাথা ব্যথা অনেক সময় পানিশূন্যতা বা দুর্বলতার কারণে হয়। ইসলাম শরীরের হকের কথাও গুরুত্ব দিয়েছে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “নিশ্চয় তোমার শরীরেরও তোমার ওপর হক আছে।” (সহিহ বুখারি)

অতএব সহনীয় মাত্রায় বাম বা মলম ব্যবহার করে ব্যথা কমানো জায়েজ। তবে যদি অসুস্থতা বেড়ে যায় এবং রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে পড়ে, তাহলে পরে কাজা করার সুযোগ রয়েছে। রোজা অবস্থায় মাথা ব্যথা হলে বাম বা মলম ব্যবহার করা শরিয়তসম্মতভাবে বৈধ এবং এতে রোজা নষ্ট হয় না।

হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আমল প্রমাণ করে, বাহ্যিক চিকিৎসা গ্রহণ করা রোজার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।

তবে রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধি। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও ধৈর্যের সঙ্গে রোজা পালন করাই একজন মুমিনের জন্য উত্তম পথ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X