বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলোচনা তুঙ্গে, কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
খন্দকার মোশাররফ ও মঈন খান
expand
খন্দকার মোশাররফ ও মঈন খান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে মন্ত্রিসভাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রবীণ দুই নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খান এখনো সরকারের বাইরে আছেন।

সর্বশেষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তারা। ফলে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সমাজের সচেতন জনগোষ্ঠীর অনেকেরই নজর এখন এ দুই নেতার দিকে।

প্রবীণ এ দুই নেতাকে কোথায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে জনমনে। আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে, খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে রাষ্ট্রপতি এবং ড. মঈন খানকে সংসদের স্পিকার নির্বাচিত করা হতে পারে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে, মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় ছিলেন-এমন অধিকাংশ বিএনপি ও শরিক দলের নেতা মঙ্গলবার গঠিত মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন। এরপর আলোচনায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ নেতা স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ করা হয় উপদেষ্টা।

এমন পরিস্থিতিতে দেখা যায়, বিএনপির প্রবীণ ও গুরুত্বপূর্ণ ওই দুই নেতাই কেবল সরকারের বাইরে আছেন। ফলে তাদের কোথায় রাখা হবে, সে আলোচনা শুরু হয় বিএনপির পাশাপাশি অন্য দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও।

সূত্র জানায়, দলের নেতাকর্মীদের অনেকেই ওই দুই নেতার বাসায় গিয়ে আগাম শুভেচ্ছাও জানান। খন্দকার মোশাররফকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি এবং মঈন খানকে সম্ভাব্য স্পিকার হিসাবে টেলিফোনে অনেকে জানান আগাম শুভেচ্ছা। তবে দুই নেতার ঘনিষ্ঠজনরা জানান, মন্ত্রিসভা গঠনের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তারা ধারণা করছেন, প্রবীণ দুই নেতাকে সংসদ ও সরকারের সম্মানজনক জায়গায় রাখা হবে।

অবশ্য ওই দুই নেতার শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানান, তাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তারা কিছুই জানেন না বলেও উল্লেখ করেন কর্মী-সমর্থকদের কাছে। প্রবীণ দুই নেতাই বর্তমানে গুলশানের বাসায় রয়েছেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী।

তবে দলের স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খান এখনো কোনো দায়িত্ব পাননি। এ কারণেই রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা-১ ও ২ আসন থেকে মোট পাঁচবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দল তাকে রাষ্ট্রপতির সম্মানজনক পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলেও ঘনিষ্ঠজনদের ধারণা। অন্যদিকে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খান নরসিংদী-২ আসন থেকে মোট চারবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। অনেকের মতে, প্রবীণ নেতা ড. মঈন খানকে স্পিকার পদে নির্বাচিত করা হলে তিনি ভালো করবেন।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী, একজন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সর্বোচ্চ দুইবার দায়িত্ব পালন করতে পারেন তিনি। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব পান। তার মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।

যদিও ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে জোরালো আন্দোলন করেছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে অপসারণ কিংবা তার পদত্যাগের ঘটনা ঘটেনি।

তবে গত ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে যেতে চান।

কারণ, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি ‘অপমানিত বোধ করছেন’। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সরে যেতে চাই, আমি সরে যেতে আগ্রহী। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’

অন্যদিকে, শপথ গ্রহণের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ অধিবেশন ডাকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রথম অধিবেশনেই সংসদ সদস্যদের ভোটে স্পিকার নির্বাচিত হবেন।

সংবিধান অনুযায়ী বিদায়ি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার নির্বাচনের বিধান থাকলেও এবার তা হচ্ছে না। বিদায়ি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এবার সভাপতিত্বে করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। তার সভাপতিত্বেই নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X