বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেহরি খাওয়ার সময় ও বিশেষ কিছু নিয়ম  

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

সেহরি হলো পবিত্র রমজানে সিয়াম সাধনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেহরির মাঝে আছে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও অশেষ বরকত। সেহরি খাওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বা নবীজি (সা.) কখন খাবার গ্রহণ শেষ করতেন।

হাদিসের আলোকে জানা যায়, শেষ রাতের এই খাবার কেবল ক্ষুধা নিবারণের জন্য নয়, বরং নবীজির (সা.) সুন্নাহ মেনে সঠিক সময়ে খাওয়াতেই পূর্ণ সওয়াব নিহিত।

সেহরির সঠিক সময় ও সুন্নাহ

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, মধ্যরাতের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত সেহরি খাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে একদম শেষ সময়ে তথা সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময়ে খাওয়া মুস্তাহাব।

জায়েদ ইবনে সাবেত (রা.)-এর এক বর্ণনা থেকে জানা যায়, নবীজি (সা.) সেহরি শেষ করার পর মাত্র ৫০ বা ৬০টি আয়াত তিলাওয়াত করতে যতটুকু সময় লাগে, এরপরই ফজরের নামাজের জন্য প্রস্তুত হতেন। বর্তমান সময়ের হিসাবে এই সময়টুকু গড়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো। তাই সুন্নত হলো আজানের অন্তত ২০ মিনিট আগে সেহরি শেষ করা। তবে খেয়াল রাখতে হবে, অধিক দেরি করতে গিয়ে যেন সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি না হয়।

সেহরি খাওয়ার গুরুত্ব ও ফজিলত

রোজার জন্য সেহরি খাওয়া অপরিহার্য বা ফরজ কোনো শর্ত নয়। কেউ যদি অনিচ্ছাবশত বা ইচ্ছা করে সেহরি না খেয়েও রোজা রাখেন, তবে তাঁর রোজা সহিহ হয়ে যাবে এবং এর জন্য কোনো গুনাহ হবে না। কিন্তু এটি মহানবী (সা.)-এর একটি অত্যন্ত পছন্দনীয় সুন্নত। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, “আপনারা সেহরি খাও। কেননা, সেহরিতে বরকত রয়েছে।” অন্য একটি বর্ণনায় তিনি একে ‘বরকতময় খাবার’ হিসেবে অভিহিত করে সাহাবিদেরও সেহরি খেতে উৎসাহ দিতেন।

খাবারের পরিমাণ ও খেজুরের ব্যবহার

অনেকে ক্ষুধা না থাকলে বা আলসেমি করে সেহরি এড়িয়ে চলেন। কিন্তু হাদিসে এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও এই বরকত গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, “সেহরি খাওয়া বরকতপূর্ণ কাজ। সুতরাং আপনারা তা পরিত্যাগ করবেন না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহরি করুন। যারা সেহরি খায় আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।” তাই সেহরি পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, সুন্নত আদায়ের নিয়তে সামান্য কিছু গ্রহণ করাও সওয়াবের কাজ। এমনকি মুমিনদের জন্য একটি বা দুটি খেজুর দিয়ে সেহরি করাকেও অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও বরকতময় পদ্ধতি হিসেবে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।

মুসলিমদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য

সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে মুসলিমদের রোজা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের চেয়ে আলাদা ও স্বতন্ত্র হয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, “আমাদের রোজা ও আহলে কিতাব বা পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের অনুসারীদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া।” আধ্যাত্মিক এই বরকত লাভের সুযোগ কোনো মুমিনেরই হাতছাড়া করা উচিত নয়। সঠিক সময়ে এবং সুন্নাহ মেনে সেহরি গ্রহণের মাধ্যমেই একজন রোজাদার তাঁর ইবাদতে পূর্ণতা আনতে পারেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X