

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রোজা অবস্থায় ভিডিও গেমস খেলা নিজে নিজে হারাম নয়। তবে এটি জায়েজ হবে না গুনাহের কাজে লিপ্ত হলে বা রোজার উদ্দেশ্য নষ্ট করলে। অর্থাৎ গেমের ধরন ও খেলার প্রভাবের ওপর হুকুম নির্ভর করে। যদি গেমটি হয় নির্দোষ ও সীমার মধ্যে
যেমন-
শিক্ষামূলক বা সাধারণ বিনোদনের গেম যাতে অশ্লীলতা নেই গালাগালি, জুয়া বা হারাম কনটেন্ট নেই নামাজ ও ইবাদতে বাধা দেয় না
আরও পড়ুনঃ ফিদইয়ার টাকা কি একসাথে দেওয়া যায় নাকি প্রতিদিন দিতে হয়?
তাহলে এমন গেম খেলা জায়েজ, তবে রোজার সময় বেশি সময় নষ্ট করা মাকরুহ (অপছন্দনীয়)। কারণ রমজান ইবাদতের মাস, খেলাধুলার মাস নয়। যদি গেমে থাকে হারাম বিষয়
যেমন-
অশ্লীল দৃশ্য বা চরিত্র গান-বাজনা ও অশ্লীল শব্দ জুয়া বা বেটিং হিংসা, গালি-গালাজ, রাগ ও ঝগড়া
তাহলে রোজা থাকুক বা না থাকুক, এসব গেম খেলা গুনাহ। রোজা অবস্থায় করলে গুনাহ আরও বেশি হবে এবং রোজার সওয়াব নষ্ট হয়ে যাবে।
রোজা কি ভেঙে যাবে?
ভিডিও গেম খেলার কারণে রোজা ভাঙে না, যতক্ষণ না খাওয়া-পান করা হয় ধূমপান করা হয় বা অন্য কোনো রোজা ভঙ্গকারী কাজ করা হয়
আরও পড়ুনঃ রোজা রেখে ইউটিউব বা ফেসবুকে ভিডিও দেখলে কি গুনাহ হবে?
কিন্তু গেম খেলতে গিয়ে যদি গালি দেওয়া হয় মিথ্যা কথা বলা হয় অশ্লীল কিছু দেখা হয়
তাহলে রোজা ভাঙবে না, তবে বড় গুনাহ হবে।
হাদিসের সতর্কতা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ পরিত্যাগ করে না, আল্লাহর কাছে তার পানাহার ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজন নেই।” সহিহ বুখারি
এ হাদিস বোঝায়, রোজা শুধু না খাওয়ার নাম নয়, বরং চোখ, কান ও আচরণ সংযত রাখার নাম। রোজাদারের জন্য উত্তম করণীয়
রোজা অবস্থায় সময় কাটানো উচিত
আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় ধূমপান বা ভ্যাপ (Vape) নিলে কি রোজা ভেঙে যাবে?
কুরআন তিলাওয়াত জিকির ও দোয়া ইসলামী আলোচনা শোনা উপকারী জ্ঞান অর্জন এসব কাজে রোজার সওয়াব বৃদ্ধি পায়।
রোজা রেখে ভিডিও গেম খেলা রোজা ভাঙে না। নির্দোষ ও সীমিত হলে জায়েজ, তবে সময় নষ্ট করা ঠিক নয়। অশ্লীল বা হারাম গেম খেললে গুনাহ হবে এবং রোজার সওয়াব নষ্ট হবে।
রমজান হলো নফসকে নিয়ন্ত্রণ ও আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার মাস, তাই খেলাধুলার চেয়ে ইবাদতকে অগ্রাধিকার দেওয়াই উত্তম।
মন্তব্য করুন

