

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামে সফরের কারণে কিছু ইবাদতে ছাড় দেওয়া হয়েছে, যেমন কসর নামাজ পড়া এবং রোজা না রাখার অনুমতি।
তবে এ ছাড় পেতে হলে নির্দিষ্ট দূরত্বে সফর করতে হবে। এই দূরত্বকে শরিয়তের ভাষায় “সফরের সীমা” বলা হয়।
শরিয়তের নির্ধারিত দূরত্ব
ফিকহের অধিকাংশ আলেমের মতে, সফর হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য ন্যূনতম দূরত্ব হলো প্রায় ৪৮ মাইল। বর্তমান হিসাবে এটি প্রায় ৭৭ থেকে ৮০ কিলোমিটার।
আরও পড়ুনঃ ঈদের নামাজের আগে ফিতরা না দিলে কি আদায় হবে?
অর্থাৎ কেউ যদি নিজের স্থায়ী বসবাসের জায়গা থেকে কমপক্ষে ৭৭–৮০ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার নিয়ত করে বের হয়, তাহলে সে শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসাফির হবে।
এই দূরত্ব পূর্ণ হলে দুটি ছাড় প্রযোজ্য হয়
চার রাকাত ফরজ নামাজ দুই রাকাত করে কসর পড়া যাবে রমজানে রোজা না রেখে পরে কাজা করার অনুমতি থাকবে
কখন থেকে এই ছাড় কার্যকর হবে
যখন কেউ নিজের শহর বা গ্রামের সীমানা অতিক্রম করবে এবং তার নিয়ত থাকবে অন্তত ৭৭–৮০ কিলোমিটার যাওয়ার, তখন থেকেই সে মুসাফির হিসেবে গণ্য হবে।
ঘর থেকে বের হলেই নয়, বরং এলাকা বা শহরের সীমা পার হলে সফরের বিধান শুরু হবে।
আরও পড়ুনঃ শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে জাকাত দেওয়া কি উত্তম নাকি নগদ টাকা?
রোজার ছাড়ের বিধান
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন, “আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করবে।” (সূরা বাকারা: ১৮৫)
এর ভিত্তিতে বলা যায়, মুসাফির ব্যক্তি চাইলে রোজা রাখতে পারে, আবার চাইলে রোজা ভেঙে পরে কাজা আদায় করতে পারে।
যদি কষ্ট না হয়, তবে রোজা রাখা উত্তম। আর যদি কষ্ট হয়, তবে রোজা না রাখাই উত্তম।
কসর নামাজের বিধান মুসাফির হলে যোহর, আসর ও এশার চার রাকাত ফরজ নামাজ দুই রাকাত করে পড়তে হবে। তবে ফজর ও মাগরিব কসর করা যাবে না।
সুন্নত নামাজের ক্ষেত্রে চাইলে পড়বে, চাইলে না পড়লেও গুনাহ হবে না।
কতদিন থাকলে মুসাফির থাকবে যদি কেউ কোনো জায়গায় ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করে, তাহলে সে পুরো সময় মুসাফির থাকবে এবং কসর নামাজ ও রোজার ছাড় পাবে।
আর যদি শুরুতেই ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করে, তাহলে সে মুকিম হিসেবে গণ্য হবে এবং তার জন্য পূর্ণ নামাজ পড়া ও রোজা রাখা ফরজ হবে।
আরও পড়ুনঃ সফরের বা ভ্রমণের সময় রোজা রাখার বা ভাঙার নিয়ম।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
শুধু অল্প দূরত্ব যেমন ২০–৩০ কিলোমিটার গেলে শরিয়তের সফর ধরা হয় না। সে ক্ষেত্রে কসর নামাজ বা রোজার ছাড় পাওয়া যাবে না।
সফরের ছাড়কে অজুহাত বানিয়ে অপ্রয়োজনে রোজা ভাঙা বা কসর করা ঠিক নয়। ছাড় তখনই প্রযোজ্য, যখন প্রকৃত সফর সংঘটিত হয়।
কসর নামাজ ও রোজার ছাড় পাওয়ার জন্য ন্যূনতম দূরত্ব হলো প্রায় ৭৭ থেকে ৮০ কিলোমিটার। এই দূরত্বে যাওয়ার নিয়ত করে নিজ এলাকার সীমানা পার হলে একজন ব্যক্তি মুসাফির হবে এবং শরিয়তের দেওয়া ছাড়গুলো প্রযোজ্য হবে।
মন্তব্য করুন

