

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মৃত্যুর পর মানুষের প্রথম منزل বা স্তর হলো কবর। কবরই আখিরাতের জীবনের প্রথম ধাপ। যদি কবরের অবস্থা শান্তিময় হয়, তবে পরবর্তী ধাপগুলো সহজ হবে। আর যদি কবরের শাস্তি শুরু হয়, তবে আখিরাতের পথ কঠিন হয়ে যায়।
এ কারণে রাসূলুল্লাহ ﷺ কবরের আজাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে আমাদের বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। কবরের আজাব থেকে মুক্তির দোয়া করা মুমিনের দৈনন্দিন আমলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “ফিরাউন সম্প্রদায়কে সকাল-সন্ধ্যায় আগুনের সামনে উপস্থিত করা হয়।” (সূরা গাফির: ৪৬)। মুফাসসিরগণ বলেন, এটি কবরের আজাবের প্রমাণ। অর্থাৎ কিয়ামতের আগেই কিছু মানুষের ওপর শাস্তি শুরু হয়।
আরও পড়ুনঃ বদনজর থেকে বাঁচার দোয়া ও রুকইয়াহ।
হাদিসেও কবরের আজাবের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “তোমরা কবরের আজাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।” (সহিহ মুসলিম)। তিনি সাহাবিদের নামাজের শেষ তাশাহহুদের পর নিয়মিত এই দোয়া পড়তে শিখিয়েছেন।
কবরের আজাব থেকে মুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো— اللّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আযাবিল কবর, ওয়া মিন আযাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে কবরের আজাব থেকে, জাহান্নামের শাস্তি থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।
এই দোয়াটি রাসূলুল্লাহ ﷺ ফরজ নামাজের শেষ বৈঠকে পড়তে শিখিয়েছেন। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)। এটি কবরের আজাব থেকে বাঁচার সবচেয়ে শক্তিশালী সুন্নাহ দোয়া।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো— اللّهُمَّ أَجِرْنِي مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আজিরনি মিন আযাবিল কবর।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাকে কবরের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
আরও পড়ুনঃ নেক সন্তান লাভের জন্য রমজান মাসে করণীয় দোয়া।
এই দোয়া বারবার পড়া আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার প্রকাশ। শুধু দোয়া নয়, কিছু আমল কবরের আজাব থেকে মুক্তির মাধ্যম হিসেবে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিয়মিত সূরা মুলক পাঠ করে, তা তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবে।” (তিরমিজি)। তাই প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে সূরা মুলক পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল।
আরেকটি বড় আমল হলো পেশাব থেকে পবিত্র থাকা। হাদিসে এসেছে, কবরের আজাবের একটি বড় কারণ হলো পেশাবের ব্যাপারে অবহেলা করা। (বুখারি, মুসলিম)। তাই শরীর ও কাপড় পাক রাখা কবরের আজাব থেকে রক্ষার অন্যতম মাধ্যম।
নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়াও কবরের শান্তির কারণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয় নামাজ মানুষকে অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।” (সূরা আনকাবুত: ৪৫)।
যে ব্যক্তি দুনিয়াতে নামাজের মাধ্যমে নিজেকে গুনাহ থেকে দূরে রাখে, আল্লাহ তাকে কবরেও নিরাপত্তা দান করেন।
তাওবা ও ইস্তেগফার কবরের আজাব থেকে মুক্তির আরেকটি বড় উপায়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করে, আল্লাহ তার জন্য প্রত্যেক দুঃখ থেকে মুক্তির পথ তৈরি করে দেন।” (আবু দাউদ)।
গুনাহ কবরের অন্ধকার বাড়ায় আর তাওবা কবরকে আলোকিত করে।
আরও পড়ুনঃ জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া।
এছাড়া সদকা ও মানুষের উপকার করাও কবরের শান্তির কারণ। হাদিসে এসেছে, সদকা কবরের অন্ধকারকে নূরে পরিণত করে। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মানুষের উপকার করে, আল্লাহ কবরেও তার জন্য রহমতের দরজা খুলে দেন।
সবশেষে বলা যায়, কবরের আজাব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দোয়া ও আমল দুটোই জরুরি। নিয়মিত নামাজের পর কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাওয়া, সূরা মুলক তিলাওয়াত করা, পবিত্রতা রক্ষা করা, গুনাহ থেকে দূরে থাকা এবং তাওবা-ইস্তেগফার করা।
এই সবকিছু মিলেই কবরের শান্তির পথ তৈরি করে। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে আল্লাহর হুকুম মেনে চলে, আল্লাহ তাআলা তাকে কবরের অন্ধকার থেকে মুক্ত করে নূর ও প্রশান্তি দান করবেন। কবর হবে তার জন্য জান্নাতের একটি বাগান এবং আখিরাতের সফলতার প্রথম দরজা।
মন্তব্য করুন

