

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মুমিনের জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে জান্নাতে প্রবেশ করা এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া।
কুরআন ও হাদিসে বারবার জান্নাতের সুসংবাদ এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য দোয়া ও আমলের কথা বলা হয়েছে।
রমজান মাস বিশেষভাবে দোয়া কবুলের সময় হওয়ায় এই মাসে জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য বেশি বেশি দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, “যারা বলে, হে আমাদের রব, আমাদেরকে জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন। নিশ্চয় তার আজাব স্থায়ী ও ভয়াবহ।” (সূরা ফুরকান: ৬৫)।
আরও পড়ুনঃ স্বামী-স্ত্রীর মিল মহব্বত বৃদ্ধির জন্য রমজানের আমল।
এই আয়াত প্রমাণ করে, জান্নাত চাওয়ার পাশাপাশি জাহান্নাম থেকে বাঁচার দোয়া করা মুমিনদের বৈশিষ্ট্য।
জান্নাত লাভের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কুরআনিক দোয়া হলো— رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ
বাংলা উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাঁও ওয়া কিনা আযাবান নার।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন, আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। (সূরা বাকারা: ২০১)
এই দোয়াটি রাসূলুল্লাহ ﷺ সবচেয়ে বেশি পড়তেন। হাদিসে এসেছে, নবী ﷺ-এর দোয়াগুলোর মধ্যে এই দোয়াটি ছিল অন্যতম অধিক পঠিত দোয়া। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)।
এতে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের কল্যাণ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির আবেদন একসঙ্গে রয়েছে।
জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ একটি দোয়া হলো— اللّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ
আরও পড়ুনঃ বদনজর থেকে বাঁচার দোয়া ও রুকইয়াহ।
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন।
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ফজর ও মাগরিবের পর সাতবার এই দোয়া পড়ে, যদি সে দিনে বা রাতে মারা যায়, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে নিরাপত্তা দান করেন। (আবু দাউদ)।
রমজানে এই দোয়া নিয়মিত পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
জান্নাত লাভের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো— اللّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আউজু বিকা মিনান নার।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার আশ্রয় চাই।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে তিনবার জান্নাত চায়, জান্নাত বলে: হে আল্লাহ, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর যে তিনবার জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চায়, জাহান্নাম বলে: হে আল্লাহ, তাকে আমার শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।” (তিরমিজি)।
জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য শুধু মুখে দোয়া করলেই যথেষ্ট নয়, বরং আমলও জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত।” (সূরা বাকারা: ২৫)।
তাই নামাজ কায়েম করা, রোজা রাখা, যাকাত দেওয়া, গুনাহ থেকে দূরে থাকা—এসব আমল জান্নাতের পথ সহজ করে।
রমজান মাসে জান্নাতের দরজা খোলা থাকে এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ থাকে—এ মর্মে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “রমজান এলে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।” (সহিহ বুখারি, মুসলিম)।
আরও পড়ুনঃ নেক সন্তান লাভের জন্য রমজান মাসে করণীয় দোয়া।
তাই এই মাসে জান্নাত লাভের দোয়া করার সুযোগ আরও বেশি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো নাজাতের দশকের দোয়া— اللّهُمَّ أَجِرْنَا مِنَ النَّارِ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নার।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন।
সবশেষে বলা যায়, জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া মুমিন জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। কুরআন ও হাদিসের দোয়াগুলো নিয়মিত পড়া, বিশেষ করে রমজানে ইফতারের আগে, তাহাজ্জুদের সময় এবং শেষ দশ রাতে পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে জান্নাত কামনা করে এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চেষ্টা করে, আল্লাহ তাআলা তাকে অবশ্যই হেদায়েত দেন এবং নিরাপদ পথে পরিচালিত করেন।
তাই প্রতিদিন এই দোয়াগুলো পড়া ও আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করাই মুমিনের প্রকৃত সফলতা।
মন্তব্য করুন

