শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বদনজর থেকে বাঁচার দোয়া ও রুকইয়াহ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ইসলামে বদনজর বা নজর লাগা একটি বাস্তব সত্য হিসেবে স্বীকৃত। কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে প্রমাণ রয়েছে যে মানুষের হিংসা, বিস্ময় বা কুদৃষ্টির কারণে ক্ষতি হতে পারে আল্লাহর ইচ্ছায়।

বদনজরের প্রভাব কখনো শরীরের অসুস্থতা, মানসিক অস্থিরতা, সংসারে অশান্তি বা হঠাৎ বিপদের কারণ হতে পারে। তাই মুসলমানের জন্য বদনজর থেকে বাঁচার দোয়া ও রুকইয়াহ জানা ও আমল করা অত্যন্ত জরুরি।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “বদনজর সত্য। যদি তাকদিরকে কোনো কিছু অতিক্রম করতে পারত, তবে বদনজরই তা করত।” (সহিহ মুসলিম)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, বদনজর বাস্তব এবং এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে।

তবে আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে নিরাপত্তার ব্যবস্থা দিয়েছেন, যা হলো দোয়া, জিকির ও রুকইয়াহ।

আরও পড়ুনঃ দুশ্চিন্তা ও ডিপ্রেশন দূর করার জন্য রমজানের বিশেষ দোয়া।

বদনজর থেকে বাঁচার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো সকাল-সন্ধ্যার যিকির। রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রতিদিন ফজরের পর ও মাগরিবের পর তিনটি সূরা পড়ে নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করতেন।

এই সূরাগুলো হলো সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস। হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করবে, তা তাকে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবে।” (তিরমিজি)।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো— أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

বাংলা উচ্চারণ: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক। অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমা সমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্ট সব অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।

রাসূলুল্লাহ ﷺ এই দোয়া শিশুদের জন্য নিয়মিত পড়তেন এবং সাহাবাদেরও শেখাতেন। (সহিহ মুসলিম)। বদনজর থেকে বাঁচার জন্য এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর দোয়া।

আরও পড়ুনঃ জ্ঞান বৃদ্ধির দোয়া: ছাত্র-ছাত্রীরা রমজানে যা বেশি পড়বে।

রুকইয়াহ অর্থ হলো কুরআনের আয়াত ও সহিহ দোয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা করা। ইসলামে বৈধ রুকইয়াহ তিনটি শর্তে জায়েজ: তা কুরআন বা সহিহ দোয়া দ্বারা হতে হবে.

আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা থাকতে হবে এবং এতে কোনো শিরকি কথা থাকা যাবে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে রুকইয়াহ করতেন এবং সাহাবাদের অনুমতি দিয়েছেন। (সহিহ মুসলিম)।

রুকইয়াহর জন্য সবচেয়ে বেশি পড়া আয়াত হলো আয়াতুল কুরসি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করেন, যে তাকে সকাল পর্যন্ত হেফাজত করবে।” (সহিহ বুখারি)।

বদনজরের প্রভাব দূর করার জন্য আয়াতুল কুরসি দিনে কয়েকবার পড়া সুন্নাহসম্মত। এছাড়া সূরা বাকারা ঘরে তিলাওয়াত করলে শয়তান ও কুদৃষ্টি দূরে থাকে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে ঘরে সূরা বাকারা পাঠ করা হয়, সে ঘর থেকে শয়তান পালিয়ে যায়।” (মুসলিম)। এর মাধ্যমে বদনজরের ক্ষতি থেকেও নিরাপত্তা পাওয়া যায়।

বদনজর থেকে বাঁচার জন্য আমলগত কিছু সুন্নাহও রয়েছে। যেমন কোনো সুন্দর জিনিস দেখলে “মাশাআল্লাহ লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” বলা।

আরও পড়ুনঃ স্বামী-স্ত্রীর মিল মহব্বত বৃদ্ধির জন্য রমজানের আমল।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কেউ যদি তার ভাইয়ের কোনো ভালো জিনিস দেখে, তবে তার জন্য বরকতের দোয়া করবে। (মুয়াত্তা মালিক)। এতে হিংসা ও বদনজরের ক্ষতি কমে যায়।

সবশেষে বলা যায়, বদনজর থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় উপায় হলো আল্লাহর স্মরণে থাকা, নিয়মিত দোয়া করা ও সুন্নাহ অনুযায়ী রুকইয়াহ করা। কুরআন ও হাদিসের দোয়াগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তার ঢাল।

যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যার যিকির, আয়াতুল কুরসি, তিন কুল এবং নির্দিষ্ট দোয়াগুলো নিয়মিত পড়ে, আল্লাহ তাআলা তাকে বদনজর, জিন ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করেন।

তাই মুসলমানের উচিত বদনজরকে ভয় না করে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নিয়মিত এই দোয়া ও রুকইয়াহ আমল করা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X