

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি গঠন নিয়ে পাল্টাপাল্টি কমিটি ঘোষণার ঘটনায় সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। একই দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে কোন কমিটি সাংগঠনিকভাবে বৈধ, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহ বলেন, কমিটি গঠন ও ঘোষণার দায়িত্ব সাংগঠনিক সম্পাদকের। তার ভাষায়, হেফাজতের নীতিমালা এ ধরনের পাল্টা কমিটিকে সমর্থন করে না এবং বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বশিরুল্লাহ বলেন, ‘কমিটি ঘোষণা করা, কমিটি বানানো তো সাংগঠনিক সম্পাদকের কাজ। কিন্তু আমি কমিটি ঘোষণার পর হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহকারী প্রচার সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান যে কমিটি ঘোষণা করলেন, তিনি তো এর এখতিয়ার রাখেন না মনে হয়। এটা তার করার সুযোগ তো নাই।’
হেফাজতের নেতৃত্বে বিভাজন নিয়ে মুফতি বশিরুল্লাহ ফেরদাউসুর রহমানের ঘোষিত কমিটির বিষয়টিকে ‘বিদ্রোহ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘একটি বৃহৎ সংগঠনে অভিমান-অনুরাগ থাকতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক যে কমিটি ঘোষণা করেছেন, সেই কমিটি ঘোষণার পর এভাবে পাল্টা আরেকটা কমিটি ঘোষণা করা যায় না। হেফাজতের নীতিমালা এটাকে সমর্থন করে না।’
ফেরদাউসুর রহমানের ঘোষিত কমিটি সাংগঠনিকভাবে গ্রহণযোগ্য বিষয়ে মুফতি বশিরুল্লাহ বলেন, ‘এটা কোনো কমিটি হয়নি। আমরা শিগগিরই বসে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’
এদিকে, পাল্টা কমিটি ঘোষণার কারণ হিসেবে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে কমিটি করার অভিযোগ তুলেছেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহকারী প্রচার সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান। তার দাবি, নারায়ণগঞ্জের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা না করে একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও জানান।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে ফেরদাউসুর রহমান বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি, তৃণমূল পর্যায়ে (নারায়গণঞ্জে) যারা হেফাজতকে চাঙ্গা রাখছে এবং বিভিন্ন সময় হামলা-মামলা জেল-জুলুমের শিকার, তাদের কাউকে না জানিয়ে ভিতরে ভিতরে একটা পারিবারিক কমিটি করা হচ্ছে। তখন কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করলাম।’
তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ হাবিব কর্মসূচিটি স্থগিত রাখার জন্য কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদককে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ফেরদাউসুর রহমান বলেন, ‘কিন্তু ওনারা নির্দেশনা না মেনে কীভাবে কীভাবে মাহফুজ সাহেবকে ম্যানেজ করে নিয়ে এসে এই কমিটির ঘোষণা দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘হেফাজতের কোনো সাংগঠনিক কাঠামোই নাই। নীতিমালা নাই। বিষয়টা হচ্ছে, তৃণমূল পর্যায়ে যারা এটা শুনছে, তাৎক্ষণিকভাবে সবাই একসাথে জড়ো হয়েছি আমরা। পরে কেন্দ্রের সাথে আমরা যোগাযোগের মাধ্যমে এই কমিটি ঘোষণা দিয়েছি।’
ফেরদাউসুর রহমান তিনি বলেন, ‘আমি আপাতত নামটা বলতে চাচ্ছি না। একাধিক নেতার সাথে কথা হইছে। পরে আমরা আমাদের মতো কমিটি ঘোষণা দিয়েছি। অনুমোদন দেওয়া তো কেন্দ্রের দায়িত্ব। দেখা যাক বাকিটা।’
নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতিতে সবাইকে নিয়ে কমিটি করা প্রয়োজন ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘ভিতরগত অনেক সমস্যা আছে যেগুলো জনসম্মুখে আনা উচিত মনে করি না। ওনারা জানেন যে, নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ পরিস্থিতি এরকম। সবাইকে নিয়ে কমিটিটা করার প্রয়োজন ছিল। এটা সূত্রপাত্র তারাই করছে। যারা বড় পদে থেকে সবাইকে নিয়ে কমিটি করতে পারে না, তাদের নিয়ে প্রশ্ন কিছু থেকে যায়।’
প্রসঙ্গত, বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ডিআইটি জামে মসজিদে মুফতি জাকির হোসেনকে সভাপতি ও মাওলানা আব্দুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে চার সদস্যের মহানগর কমিটি ঘোষণা করেন মুফতি বশিরুল্লাহ। এর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে ফতুল্লার জামতলা এলাকায় মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমীকে সভাপতি ও মাওলানা তাজুল ইসলাম আব্বাসকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যের পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেন মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান।
পাল্টাপাল্টি কমিটি ঘোষণার ঘটনায় মুফতি বশিরুল্লাহ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই কেন্দ্রীয়ভাবে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর হেফাজতের নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিরোধের চূড়ান্ত সাংগঠনিক নিষ্পত্তির অপেক্ষা করতে হবে সংশ্লিষ্টদের।


