

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কেনিয়ার ওয়েস্ট পোকট কাউন্টির দূরবর্তী চেপোরোর গ্রামটিতে সম্প্রতি এক আকস্মিক ‘গোল্ড রাশ’ বা সোনা খোঁজার হিড়িক শুরু হয়েছে। ঘটনাটির সূচনা ৩৩ বছর বয়সি মানাসে লোমাচার নামের এক ছাগলপালকের মাধ্যমে।
নিজের হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে গিয়ে নদীর তীরে সোনা অনুসন্ধানরত কয়েকজন নারীর সঙ্গে কাজ শুরু করেন তিনি। সেখান থেকে মাত্র ৩ গ্রাম সোনা পেয়ে তা বিক্রি করে প্রায় ৩৬ হাজার কেনিয়ান শিলিং (প্রায় ২৮০ মার্কিন ডলার) আয় করেন লোমাচার।
তবে শুধু লোমাচারের এই ঘটনাই নয়, আগস্টের শুরুতে একদল তরুণ এবং পরবর্তীতে কয়েকজন নারী একই এলাকায় তুলনামূলক বড় পরিমাণের সোনার সন্ধান পান। লোকমুখে এবং অতিরঞ্জিত গল্পে ছড়িয়ে পড়া এই খবর শুনেই খনি কাজের কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষ সেখানে ভিড় জমান।
প্রতিবেশী দেশ উগান্ডা থেকেও বহু মানুষ সোনার আশায় ছুটে এসেছেন- যেমন উগান্ডার বুসিয়া থেকে আসা খনিশ্রমিক মুগিশা গডফ্রে, যিনি ২৭ ডলার খরচ করে এসে এখনো সোনা পাননি, তবুও খালি হাতে ফিরতে নারাজ।
আগে যেখানে স্থানীয় নারীরা ছোট পরিসরে কাজ করে সপ্তাহে ৮ থেকে ২৩ ডলার আয় করতেন, সেখানে রাতারাতি মানুষের ভিড় বাড়ে। এক পর্যায়ে লোকসংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছালেও বর্তমানে তা আড়াই হাজারের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে।
যে এলাকাটি এক মাস আগেও ছিল ঝোপঝাড় ও গবাদিপশুর চারণভূমি, সেটি এখন রূপ নিয়েছে অসংখ্য গর্ত, মাটির স্তূপ এবং অস্থায়ী খনিশিবিরে। মানুষের এই সমাগমকে কেন্দ্র করে এলাকায় গড়ে উঠেছে নতুন ব্যবসা।
পানীয়জল, খাবার, দুধ ও কোমলপানীয় বিক্রির জন্য ইতোমধ্যে ২০০টিরও বেশি দোকান বসেছে, যেখানে বারিঙ্গো কাউন্টি থেকে আসা আইরিন আমেজার মতো ব্যবসায়ীরা নিজের ব্যবসার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছেন।
হঠাৎ এই বিপুল জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে স্থানীয় কিছু সংকট বেড়ে উঠেছে। বিশুদ্ধ পানি, পয়োনিষ্কাশন এবং থাকার ব্যবস্থার মারাত্মক অভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এলাকাটিতে পুরুষদের আধিক্য থাকায় নারীদের যৌন সহিংসতা ও নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এর পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের পড়াশোনা ছেড়ে খনিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন এলাকায় নিরাপত্তাটহল বাড়িয়েছে এবং সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে যাওয়া শিশুদের সুরক্ষায় জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোতায়েন করেছে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া সোনার মূল্য কয়েকশ কেনিয়ান শিলিং থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় ৭৮ হাজার শিলিং (প্রায় ৬০০ ডলার) পর্যন্ত পৌঁছেছে। শ্রমিকেরা আরও গভীর গর্ত খুঁড়ছেন এবং পরীক্ষার জন্য মাটির ট্রাক শহরের ওর্তুম এলাকায় পাঠানো হয়েছে, যেন এখানে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের মতো সোনার বড় মজুত আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
এত ঝুঁকির মধ্যেও খননকাজ বন্ধের বিপক্ষে স্থানীয়রা। মানাসে লোমাচারের দাবি, সরকার যেন ধাতু শনাক্তকারী আধুনিক যন্ত্র দিয়ে তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে। চেপোরোর গ্রামের দারিদ্র্যপীড়িত মানুষ- যাদের অনেকেই এখনো খড়ের তৈরি ঘরে বাস করেন- আশা করছেন এই খনিজ সম্পদ তাদের ভাগ্যের চাকা চিরতরে বদলে দেবে।


