বৃহস্পতিবার
২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালের পর এশিয়ার আরেক দেশে ভয়াবহ বন্যা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

জাপানের উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় ইশিকাওয়া ও তোয়ামা প্রিফেকচারে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক ও বহু বাড়ি। বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও যানবাহনে আটকা পড়েছেন মানুষ। নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) টানা ভারি বৃষ্টিতে ইশিকাওয়া ও তোয়ামার পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। বিভিন্ন নদীর পানি উপচে আশপাশের এলাকায় ঢুকে পড়ে। বন্যার পাশাপাশি ভূমিধসের কারণে কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জাপানের আবহাওয়া সংস্থা ইশিকাওয়া ও তোয়ামার কয়েকটি এলাকার জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘লেভেল ৫’ ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করে। সম্ভাব্য বন্যা ও ভূমিধস থেকে নিজেদের রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাসিন্দাদের বলা হয়।

বৃহস্পতিবার দিনের শেষ দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে আসে। এরপর সর্বোচ্চ সতর্কতা নামিয়ে মাঝারি পর্যায়ে আনে আবহাওয়া সংস্থা। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আবার বৃষ্টি এবং নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কাগা ও নোতো এলাকায় সর্বোচ্চ ২০ সেন্টিমিটার বা প্রায় ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চি বৃষ্টি হতে পারে।

দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা দুই প্রিফেকচারের ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে তুলনামূলক নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

তোয়ামার হিমি শহরে পরিস্থিতি ছিল বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের ভিডিওতে দেখা যায়, হাঁটুসমান পানির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। আটকে পড়া কয়েকজন বাসিন্দাকে রাবারের নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

বন্যার পানিতে বিভিন্ন সড়ক ডুবে যাওয়ায় একাধিক যানবাহন মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেগুলো সড়কেই ফেলে যেতে বাধ্য হন চালকেরা।

তোয়ামার পশ্চিমে প্রতিবেশী ইশিকাওয়া প্রিফেকচারের তিনটি পৌর এলাকায় বন্যার কারণে অন্তত ২৭০টি বাড়ি যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে এসব বাড়িতে আটকে পড়া বাসিন্দাদের মধ্যে কেউ আহত হয়েছেন—এমন খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ইশিকাওয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসও হয়েছে। এতে কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, দুই প্রিফেকচারের কয়েকটি নদী উপচে পড়েছে। এতে অনেক বাড়িতে পানি ঢুকেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহেও। হোকুরিকু ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, তোয়ামা ও ইশিকাওয়ায় ১ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

চলতি মাসেই জাপানে আরেকটি প্রাণঘাতী বন্যা হয়েছে। টোকিওর পূর্বে চিবা প্রিফেকচারে ভারি বৃষ্টি ও ব্যাপক বন্যায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

একই মাসে একাধিক অঞ্চলে ভারি বৃষ্টি ও বন্যা জাপানের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইশিকাওয়া ও তোয়ামায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানির খবর না থাকলেও আরও বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় ঝুঁকি কাটেনি। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

সূত্র: এপি

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন