মঙ্গলবার
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে লংমার্চ: আসিফ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চকে প্রতিবাদের কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, ‘জনগণের কষ্টের কথা তুলে ধরতেই এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।’

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এদিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টেও তিনি বিষয়টি উল্লেখ করেন।

লংমার্চ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এটি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক শক্তি মূলত তাদের প্রতিবাদ করার সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করে।’

তিনি বলেন, ‘লংমার্চের মাধ্যমে আমরা মূলত জনগণের কষ্টগুলো তুলে ধরতে চাই। এটি আমাদের সংস্কারের প্রতিশ্রুতির অংশই নয়, বরং বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ।’

দেশের বর্তমান তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, অতিরিক্ত দাম ও বিভিন্ন ভুতুড়ে বিল পরিশোধের পরও নাগরিকরা পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। এতে দেশের পরিস্থিতি ২০০৫ সালের আগের সময়ের মতো সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত স্বাধীনতা ও ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আসিফ মাহমুদ।

মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা মক্কা প্যাক্টে যুক্ত হওয়া নিয়ে সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি।’

তবে পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অবশ্যই সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার যে দরজা, সেটা খোলা রেখেই যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক কিংবা সামরিক চুক্তিতে যাওয়া প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এমন হতে হবে, যাতে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে গিয়ে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’

প্রবাসী শ্রমবাজারে অনিয়ম ও বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে সৌদি আরবের বিমান টিকিটের দাম ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা, এমনকি ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

আসিফ বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন খাতে নতুন করে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।’

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের কর্মীদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় যেতে প্রায় ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই ন্যায্য পরিস্থিতি নয়।

প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার ব্যয় কমাতে এবং শ্রমবাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে দেশবাসী, সহযোদ্ধা, প্রবাসী বাংলাদেশি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

উল্লেখ্য, ১১ দলীয় বিরোধী জোট মূলত ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই রাজপথের আন্দোলনের ডাক দেয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, গণভোটের গণরায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার সম্পন্ন করা, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও চলমান তীব্র সারসংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে বাজার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, দেশের অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে রাজনৈতিক দলীয়করণ বন্ধ করা।

এসব দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে ১১ দল। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর জুড়ে পর্যায়ক্রমে ঢাকা-রংপুর (১৯ সেপ্টেম্বর), ঢাকা-খুলনা (১০ অক্টোবর) এবং ঢাকা-সিলেট (২৪ অক্টোবর) রুটে আরও তিনটি লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবে তারা। সবশেষে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে এ আন্দোলনের বড় ধরনের সমাপ্তি টানা হবে বলে জানিয়েছে ১১ দলীয় জোট।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank