

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের আকাশি-সাদা জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ অধ্যায় একদিন না একদিন আসবেই—এটা স্বাভাবিক ছিল। তবে সেই বিদায়ের ঘোষণা যে এতটা আবেগঘন হবে, তা হয়তো অনেকেরই প্রত্যাশিত ছিল না।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ৩৯ বছর বয়সী মেসি জানিয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাথে তার পথচলা এখানেই শেষ।
মেসির ঘোষণার পর সতীর্থদের প্রতিক্রিয়ায় ফুটে উঠেছে তাকে ধরে রাখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রিয় মানুষকে বিদায় দেওয়ার সময় কখনো কখনো মেনে নিতেই হয়। আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমেও এখন সেই কঠিন বাস্তবতার ছাপ।
তরুণ সতীর্থ নিকো পাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসিকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘না, লিও! তোমার কাছ থেকে পাওয়ার মতো আরও অনেক কিছু বাকি।’
আরেক সতীর্থ মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ তার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে স্মরণ করেছেন ২০১৬ সালে মেসির প্রথমবার জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার মুহূর্ত, ‘লিও, তুমি যখন জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলে, তখন ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম। আমি তখন অল্প বয়সী, তোমার সঙ্গে কখনো এক দল হয়ে খেলার সুযোগ পাব কি না—সেটা বুঝতে তোমার বয়সের সঙ্গে নিজের বয়স মিলিয়ে হিসাব কষতাম। কথাটা বোকার মতো শোনাতে পারে, কিন্তু আমি সত্যিই তা-ই করতাম...ভাগ্য ভালো যে তুমি ফিরে এসেছিলে...আমি শুধু তোমার সঙ্গে খেলার সুযোগই পাইনি; আমরা একসঙ্গে ক্যাম্প করেছি, একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নিয়েছি, কঠিন সময় পার করেছি, অবিশ্বাস্য সব মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত আমরা একসঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’
ফার্নান্দেজ এরপর লিখেছেন, ‘তোমাকে ছাড়া পরবর্তী জাতীয় দলের ক্যাম্পের কথা কল্পনা করা সত্যিই কঠিন। মাঠে তোমাকে ১০ নম্বর জার্সি পরতে আর না দেখাটা—এত বছর ধরে অভ্যস্ত চোখের কাছে বিষয়টি অসম্ভব বলে মনে হয়। ইতিহাসের অংশ হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। আমরা তোমাকে খুব মিস করব, অধিনায়ক।’
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে মেসির ‘দেহরক্ষী’ খ্যাত মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পল ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘দেশের প্রতি তোমার ভালোবাসা, কখনো হার না মানতে ভেতরের লড়াই, অবিচার সহ্য করার শক্তি এবং সব খেলোয়াড়ের প্রতি মানবিকতা—সবকিছুর জন্য শুধু ধন্যবাদ। সর্বকালের সেরা, তুমি কল্পনাও করতে পারবে না যে আমাদের মুখে কত হাসি ফুটিয়েছ। তুমি অমর।’
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের স্ট্রাইকার লাওতারো মার্তিনেজ ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘লিও, তুমি আমাদের জন্য যা করেছ, কৃতজ্ঞতা জানানোর মতো যথেষ্ট শব্দ আমার জানা নেই। মাঠের ভেতর তোমার সব অর্জনের বাইরেও, মাঠের বাইরে আমাদের যা শিখিয়েছ, তা আমি সব সময় মনে রাখব: কখনো হার না মানা, প্রতিটি হোঁচটের পর আবারও চেষ্টা চালানো, নীরবে কাজ করা এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে নিজেদের ওপর সব সময় বিশ্বাস রাখা। তোমার নেতৃত্ব শুধু গোল, অ্যাসিস্ট বা শিরোপার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এত দিন ধরে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে তুমি আমাদের জন্য যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, সেটিই ছিল আসল...আমরা তোমাকে খুব মিস করব, অধিনায়ক।’
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে মেসির সাবেক সতীর্থ আনহেল দি মারিয়া ইনস্টাগ্রামে তিনটি শব্দ লিখেছেন, ‘চিরকালীন ধন্যবাদ, অধিনায়ক।’
ডিফেনসিভ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস মাঠের বাইরে মেসির বন্ধুও। ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘ভেবেছিলাম, এই খবরের জন্য আমি প্রস্তুত। কিন্তু স্পষ্টতই তা নই। একজন আর্জেন্টাইন, জাতীয় দলের সমর্থক, একজন সতীর্থ এবং বন্ধু হিসেবে তুমি আমার জন্য যা করেছ, তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ! তোমার সম্পর্কে বলতে গেলে ভাষা হারিয়ে ফেলি—তোমার অবদান এবং খেলোয়াড় হিসেবে মহানুভবতা, সবার ওপরে একজন মানুষ হিসেবে তুমি অসাধারণ।’


