মঙ্গলবার
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমপিও শিক্ষকদের বেতনও বাড়ছে নতুন পে-স্কেলে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে যখন আলোচনা চলছে, তখন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ খবর। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবেন তারাও।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন কাঠামোর আওতায় থাকবেন কি না, সে বিষয়ে তখন স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে এ নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

মঙ্গলবার সকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবেন।

বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতার একটি বড় অংশ সরকার এমপিওর মাধ্যমে দিয়ে থাকে। তারা মূল বেতনের শতভাগের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা পান। বাড়িভাড়া ভাতার ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে মাসে নির্দিষ্ট ১ হাজার টাকা পাওয়া গেলেও গত বছর মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। যে গ্রেডে বর্তমানে তারা কর্মরত, সেই গ্রেড অনুযায়ী নতুন কাঠামোর সুবিধা দেওয়া হবে। ফলে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা কিংবা কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পদ ও গ্রেডভেদে বেতন বৃদ্ধির পরিমাণে পার্থক্য থাকবে।

নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরিতে আগের মতো ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। আর ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। গ্রেডভেদে মূল বেতন বৃদ্ধির হার হবে প্রায় ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ।

দেশে বর্তমানে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। তাদের মধ্যে প্রায় চার লাখ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে, পৌনে দুই লাখের মতো মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে এবং ২৩ হাজারের বেশি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে কর্মরত।

এমপিওর বাইরে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের আয় থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে থাকে। তবে দেশের অধিকাংশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেই আর্থিক সক্ষমতা নেই। ফলে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর আর্থিক অবস্থায় এর সরাসরি প্রভাব পড়বে।

নতুন বেতন কাঠামো একবারে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করা হবে। তিন ধাপে ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে পুরো বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর ভাতাগুলো একযোগে কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের কথা বিবেচনায় রেখে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপেই তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে প্রথম ছয় মাসে এই গ্রেডগুলোর জন্য বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আরও ২৫ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাই থেকে বাকি ২৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে।

অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে।

অর্থাৎ নতুন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও তাদের বর্তমান গ্রেড অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তি মূল বেতন পাবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নতুন কাঠামোর আওতায় ভাতাও বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank