মঙ্গলবার
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। দেশটির একটি ফেডারেল আদালতের রায়ের পর গত ২১ আগস্ট থেকে এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। ২৮ আগস্ট হালনাগাদ করা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে অভিবাসী ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া আবার স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ভিসা পেতে আবেদনকারীদের আগের মতোই নির্ধারিত সব যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে হবে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল। এসব ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায় এবং পরবর্তী সময়ে গ্রিন কার্ডের পথও তৈরি হয়।

ওই সময় মার্কিন সরকারের যুক্তি ছিল, কিছু দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এ কারণেই আবেদনগুলোতে অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছিল তারা।

তবে এই নীতির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ আসে। নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস মামলাটিতে মার্কিন সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে রায় দেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিল ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, শুধু কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিক হওয়ার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা স্থগিত করা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

রায়ের পর স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ায় এখন ওই দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু করার প্রক্রিয়া আবার চালানো সম্ভব হবে। তবে আগে থেকেই অনুমোদিত বা ইস্যু করা ভিসাগুলো স্থগিতাদেশের কারণে বাতিল করা হয়নি।

স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকার সময়ও নতুন আবেদন করা এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। মূলত আবেদন প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে ভিসা ইস্যু করার ওপরই নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর ছিল।

এই নীতির আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, বার্মা (মিয়ানমার), কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কোত দিভোয়ার (আইভরি কোস্ট), কিউবা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর ম্যাসেডোনিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank