

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলদের সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো পরিস্থিতিতে উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্য ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
রোববার (৯ আগস্ট) জামায়াতে ইসলামীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে ৬ থেকে ৮ আগস্ট গাজীপুরের একটি মিলনায়তনে জেলা ও মহানগর আমির এবং নায়েবে আমিরদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, সংগঠনের দায়িত্বশীল ও রুকনদের নিজেদের অবস্থান মূল্যায়ন করতে হবে। আল্লাহ মুসলমানদের বিভিন্ন বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ঈমান মজবুত করার পাশাপাশি সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
জামায়াতের ত্যাগ ও কুরবানির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংগঠনের শীর্ষ কয়েকজন দায়িত্বশীলকে আল্লাহ তার কাছে তুলে নিয়েছেন। নেতাকর্মীদের ত্যাগের ফলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অতীতের বাস্তবতা বিবেচনায় নিজেদের আরও প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সতর্ক করে জামায়াত আমির বলেন, সংগঠনের আস্থার জায়গায় কেউ আঘাত করলে তা উপেক্ষা করা হবে না। সর্বোচ্চ নৈতিক মানে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও ন্যূনতম নৈতিক মান অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। কোনো বিষয়ে সন্দেহ থাকলে তা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, ‘শয়তান সংগঠনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।’ তাই একে অন্যের প্রতি খেয়াল রাখা এবং অভ্যন্তরীণ ফেতনা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রার্থীর হালাল রুজি, পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনার ওপরও গুরুত্ব দেন ডা. শফিকুর রহমান।
ভারতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশীর অধিকারকে জামায়াতে ইসলামী স্বীকার করে। তবে বাংলাদেশের ওপর জুলুম মেনে নেওয়া হবে না। একটি দেশ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে দাবি করে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্বশীলদের বক্তব্য দেওয়ার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বিদেশিরা বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে পণ্য কিনতে বাধ্য করা এবং দেশের সম্ভাবনাগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তার দাবি, সাম্রাজ্যবাদীদের অন্যতম হাতিয়ার গণমাধ্যম। শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতির ওপরও এর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা রয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ব পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্ব অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং মুসলিম বিশ্ব সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। বৈশ্বিক আগ্রাসন ও ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্রনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সব দেশের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মান ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন জামায়াত আমির।
সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজ একটি আমানত। সমাজের বড় সমস্যাগুলোর দিকে নজর দিতে হবে এবং মানুষের জন্য শক্ত আশ্রয় তৈরি করতে হবে। সুদ, ঘুষ, ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিয়ম ও মানুষের মর্যাদায় আঘাতের মতো সমস্যার সমাধানে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংগঠনকে বিতর্কিত করতে বিভিন্ন ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হচ্ছে। এসব পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সততা, মানবিকতা ও নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
শিক্ষাশিবিরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকর না করায় জনগণের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে জনগণ হতাশ। পরিবর্তনের প্রত্যাশায় মানুষ জামায়াতে ইসলামীর দিকে তাকিয়ে আছে। এ প্রত্যাশা পূরণে সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সততা, যোগ্যতা ও নৈতিকতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে হবে।
তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে কোরআন ও হাদিস স্টাডি ক্লাস, পুস্তক পাঠ এবং বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ আলোচনায় অংশ নেন দলটির দায়িত্বশীলরা।