

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দশম শ্রেণী পর্যন্ত সকল ছেলে মেয়ের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা চালুর দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য (এমপি) নুরুন্নিসা সিদ্দীকা।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন,
নুরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, আমার একটি সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের স্কুল আছে। আমি মহিলাদেরকে শিক্ষিত করার জন্য গত ২০ বছর ধরে কাজ করছি। প্রথমে মায়েদের শিক্ষা দিয়ে শুরু করি। তারপর শিশুদের স্কুল। আমার এ স্কুল থেকে শতশত ছাত্রছাত্রী এ পর্যন্ত বের হয়েছে। তারা মাত্র ১০-১২ জন এসএসসি বা তার চেয়ে উপরে গিয়েছে। অধিকাংশই তৃতীয় শ্রেণী পাশ করার পর বাবা-মা মনে করে এদের আর পড়ালেখার দরকার নেই। ছেলেরা রোজগার করবে। আর ফাইভ সিক্সে ওঠার পর মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। কার সাথে? সম্পূর্ণ অশিক্ষিত ভবঘুরে ছেলের সাথে।
তিনি বলেন, আমার স্কুলে যেসব গার্ডিয়ান আসেন,তারা তো সবাই সুবিধা বঞ্চিত শ্রেণীর। এখানে দেখা যায় মা চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়া। কিন্তু বাবা অশিক্ষিত, অনেক সময় স্বাক্ষরও করতে জানে না। সৌভাগ্যবান দুই এক জন নারী যারা অশিক্ষিত স্বামীর ঘর করেও সুখে আছে। পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সংসার চালায়। অধিকাংশেরই স্বামী আর এক নারী নিয়ে সংসার করছে। এখানে শুধু বাচ্চা প্রদান করতে আসে। তিনি আরও বলেন, এর কারণ কি? মেয়েদের মত ছেলেরাও যদি অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ পেত তাহলে কষ্ট করে বাবা-মা তাদেরকে কিছুদিন পড়াতো। একই পরিবারে মেয়েটা পড়ছে অবৈতনিক আর ছেলেটাকে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে কাজে। কারণ লেখাপড়ার খরচ চালানোর সামর্থ বাবা-মায়ের নেই। এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা আমাদের সমাজ, আমাদের সরকার বসে বসে দেখছে? সবাই তারস্বরে চিৎকার করছে 'নারী শিক্ষা' 'নারী শিক্ষা'। কিন্তু পুরুষ শিক্ষিত না হলে সেই নারীকে মূল্যায়ন করবে কে? এ কথাটা কি একবারও মাথায় আসে না?
তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, কাজেই আমার দাবি- দশম শ্রেণী পর্যন্ত সকল ছেলে মেয়ের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা চালু হোক। মেয়েদের মত ছেলেদের জন্যও শিক্ষাবৃত্তি চালু করা হোক। যারা আমার সাথে একমত তারা এই চেষ্টায় যোগ দিন! আল্লাহ অবশ্যই আমাদের সফল করবেন!!