বুধবার
২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেভাবে কার্যকর হবে নতুন পে স্কেল

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ, বেতন বৃদ্ধির হার এবং অর্থ কীভাবে ও কবে থেকে হাতে পাওয়া যাবে; এসব বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ঘিরে অনিশ্চয়তা ও কৌতূহল দুটোই বাড়ছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছর থেকে পে-স্কেল কার্যকরের সিদ্ধান্ত থাকলেও এর বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে স্পষ্টতার অভাব রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নবম পে-স্কেলের সুপারিশ পুনর্মূল্যায়নের জন্য গঠিত সচিব কমিটি আগামীকাল বুধবার বৈঠকে বসছে। ওই বৈঠকে বেসিক বেতন কাঠামো, গেজেট এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় চূড়ান্ত হতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, সচিব কমিটির সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে এবং অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাস্তবায়নের পর অর্থ পেতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।’

নতুন পে-স্কেলে বেসিক বেতনের কত শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সচিব কমিটির প্রাথমিক প্রস্তাবে প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শতভাগ বৃদ্ধির গুঞ্জন ছড়িয়েছে, যা সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বর্তমানে আলোচনায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

একইসঙ্গে বিশেষ সুবিধা কাঠামো পরিবর্তনের কারণে কার্যকর বৃদ্ধির হার আরও কমে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

কর্মকর্তারা জানান, প্রজ্ঞাপন, বিধি সংশোধন, হিসাব সমন্বয় এবং সফটওয়্যার হালনাগাদসহ নানা প্রশাসনিক কাজ শেষ করতে সময় লাগবে। ফলে জুলাই থেকে কার্যকর হলেও পুরোপুরি বেতন হাতে পেতে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে কার্যকর হলেও অর্থ ছাড় পেতে কিছুটা সময় লাগবে।

অন্যদিকে, গেজেট প্রকাশ নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। চলতি জুন মাসেই গেজেট জারি হতে পারে—এমন ইঙ্গিত থাকলেও এখনো কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়ায় সময় অনিশ্চিত।

সূত্র জানায়, বর্তমানে গ্রেডভেদে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে এই সুবিধা বাতিল হবে। ফলে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধির হার কমে আসতে পারে।

বিশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরতরা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, যেখানে কার্যকর বৃদ্ধি কমে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩৫ শতাংশে। আর ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে তা ৪০ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে।

নতুন পে-স্কেল ঘিরে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতারা।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, “গেজেট ও বেতন বৃদ্ধির হার নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ৫০ শতাংশ নাকি ১০০ শতাংশ—এ বিষয়ে পরিষ্কার ঘোষণা না আসায় পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের চাপের মধ্যে দ্রুত ও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত এখন সময়ের দাবি।

সব মিলিয়ে আগামী সচিব কমিটির বৈঠককেই নবম পে-স্কেলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Bosnia-Herz VS Qatar
Scheduled
25 Jun, 01:00 AM
VS
World Cup