শুক্রবার
১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এখনো অন্ধকারে জামায়াতের ছায়া মন্ত্রিসভা

মো. ইলিয়াস
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের ঘোষণা দেয় বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমমনা দলগুলো। বহু আলোচনার জন্ম দিলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রীসভা। দলটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

দলীয় সূত্র জানায়, সরকারের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমের বিকল্প বিশ্লেষণ ও পরিকল্পনা তুলে ধরতেই ছায়া মন্ত্রীসভা গঠনের পরিকল্পনা নেয় জামায়াত। তবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদে সরকারি দলের কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি করতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। আলোচনার দুই মাসের মধ্যেও তাদের ছায়া মন্ত্রিসভা দিতে পারেনি, তবে গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও আলোচনা শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ছায়া মন্ত্রিসভার ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। ছায়া মন্ত্রীসভা গঠন করা হলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক মাত্রা যোগ হবে এবং সরকারের কার্যক্রমের ওপর বিরোধী দলের নজরদারি আরও জোরদার হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী অর্জন করে সরকার গঠন করে বিএনপি। নির্বাচনে বিএনপি জোটের ২১২ আসনের বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭টি। এর মধ্যে জামায়াত ৬৮ আসন আর এনসিপি পেয়েছে ৬টি আসন। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরই ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দেয় জামায়াত। এরপর বিরোধী দলের নেতারা বিভিন্ন সময়ে সরকারের নীতি পর্যবেক্ষণ, সমালোচনা ও বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করতে এই ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার পর ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করব, ইনশাআল্লাহ।’ তাঁর এই ঘোষণার পরে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে ১১-দলীয় ঐক্যের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া লেখেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।’

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছায়া মন্ত্রিসভা গঠিত হলে এটি সরকারের ওপর নজরদারি, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং বিকল্প নীতিমালা প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এনপিবি নিউজকে বলেন, ছায়া মন্ত্রীসভার জন্য প্রস্তাবনা রেডি হচ্ছে। সঠিকভাবে যাতে কাজ করা যায়, কোন প্রশ্ন না আসে সেজন্য গ্রহণযোগ্য উপস্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি মিটিং হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ের আরেকটি মিটিং রয়েছে। সেখানে চূড়ান্ত হবে।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, প্রতিটা বিভাগের জন্য এক জনকে প্রধান করা হবে। আর তার অধীনে আরও সদস্যরা থাকবেন। আগামী সপ্তাহে মিটিং এর পরে সকল বিভাগের ঘোষণা না আসলেও প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের নাম ঘোষণা দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে বাকিগুলো দেয়া হবে।

ছায়া মন্ত্রী পরিষদের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এনপিবি নিউজকে বলেন, তাদের ছায়া মন্ত্রীসভার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে ছায়া মন্ত্রিসভার গুরুত্ব অপরিসীম। এদের প্রধান কাজগুলো হলো:সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা; সরকারের বাজেটের বিপরীতে জনবান্ধব বিকল্প বাজেট তুলে ধরা; মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি বা অসংগতি জনগণের সামনে আনা; বিরোধী দলের নেতাদের প্রশাসনিকভাবে দক্ষ করে তোলা।

ব্রিটিশ পদ্ধতিতে ছায়া মন্ত্রিসভার কার্যপ্রণালী

সমান্তরাল মন্ত্রণালয় : সরকারের প্রতিটি মন্ত্রীর বিপরীতে বিরোধী দল থেকে একজন ‘ছায়া মন্ত্রী’ (Shadow Minister) থাকেন। যেমন—সরকারের অর্থমন্ত্রীর (Chancellor) বিপরীতে থাকেন ‘ছায়া অর্থমন্ত্রী’।

সংসদীয় প্রশ্ন : প্রতি বুধবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যদের তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। এটি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ মঞ্চ।

বিকল্প নীতি ও বাজেট : ছায়া মন্ত্রিসভা কেবল সমালোচনা করে না, তারা জনগণের সামনে নিজেদের ‘বিকল্প বাজেট’ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা পেশ করে।

অফিসিয়াল বেতন ও পদমর্যাদা: যুক্তরাজ্যে ছায়া মন্ত্রিসভার নেতাকে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন দেওয়া হয় এবং তাকে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমান মর্যাদা দেওয়া হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন