বৃহস্পতিবার
১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল’

দ্য উইকে সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান
এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
দ্য উইকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ডা. শফিকুর রহমানের সাক্ষাৎকারের একাংশের স্ক্রিনশট
expand
দ্য উইকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ডা. শফিকুর রহমানের সাক্ষাৎকারের একাংশের স্ক্রিনশট

ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল– যা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মিল রেখে নিজেদের নীতিগুলো ক্রমাগত পরিমার্জন করেছে। আমরা সবসময়ই গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী।’

ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দলটির আমির শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। এটি আগামী রোববার ছাপা ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হবে। এই সাক্ষাৎকারে জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

‘দ্য উইক’-এর দিল্লির ব্যুরোপ্রধান নম্রতা বিজি আহুজা প্রশ্ন করেন, প্রথাগত নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে কাটানো বছরগুলো থেকে জামায়াত কী শিক্ষা নিয়েছে? জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে থাকলেও জামায়াত কখনও গণতান্ত্রিক কার্যক্রম থেকে সরে আসেনি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আমরা বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে একই প্রতীকে অংশ নিয়েছিলাম।

সেই অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে, গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে থাকে তখন সব গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য কতটা জরুরি। এই বছরগুলো শেষ পর্যন্ত জামায়াতকে আরও শক্তিশালী করেছে। সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করেছি, দলের শৃঙ্খলা আরও কঠোর করেছি এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ গভীর করেছি। সমসাময়িক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতে রাজনৈতিক কৌশলগুলোও নতুন করে সাজিয়েছি।’

ডা. শফিকুর রহমান জানান, ২০১৩ সাল থেকে কার্যত নিষিদ্ধ অবস্থার মধ্যে থাকলেও জামায়াত কখনোই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি। বর্তমানে দেশের তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ দুর্নীতি ও অপশাসনের বিকল্প হিসেবে জামায়াতের সুশৃঙ্খল কাঠামোর প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তাদের ছাত্র সংগঠন সাফল্য দেখিয়েছে। জামায়াত এখন শুধু একটি আদর্শিক দল নয়, বরং কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের অংশীদার করে দেশ গড়ার পরিকল্পনা করছে।

জামায়াতের আমির স্পষ্ট করেছেন, তারা শুধু নির্দিষ্ট আদর্শের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। তারা বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনে বিশ্বাসী। এরই মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠন করেছে জামায়াত। তবে বিএনপির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট না হলেও জাতীয় স্বার্থে ‘গঠনমূলক সহযোগিতা’ ও ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের বিষয়ে তারা ইতিবাচক। জোটবদ্ধ রাজনীতির ক্ষেত্রে তাদের তিনটি মূলনীতি হলো– জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতি।

সংখ্যালঘু ও নারীদের বিষয়ে জামায়াতের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান জানান, জামায়াত সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মানবিক মর্যাদায় বিশ্বাসী। প্রমাণ হিসেবে তিনি হিন্দু প্রার্থী মনোনয়নের কথা উল্লেখ করেন। তবে আসন বণ্টন ও জোটগত সমীকরণের কারণে নারী প্রার্থী দেওয়া যায়নি। জোটের অন্য নারী প্রার্থীদের জামায়াত সব ধরনের সমর্থন দিচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের হয়ে নারী জনপ্রতিনিধি হওয়ার নজির তিনি তুলে ধরেন।

অতীতের বিতর্ক নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান জানান, ১৯৪৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত যদি কোনো জামায়াত সদস্যের দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে তার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন