শুক্রবার
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫৩ আসন বন্টন, ইসলামী আন্দোলনের জন্য শেষ পর্যন্ত অপেক্ষায় জোট

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২০ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

নানা নাটকীয়তার পরেও ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই আসন সমঝোতা করলো জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। নির্বাচনী সমঝোতায় এই ঐক্যের নাম '১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য' যার শ্লোগান ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। এই জোটের অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দের আশা, শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন এই জোটেই থাকবে। তাদের জন্য ৪৭টি আসন ছেড়ে বাকিগুলো বন্টন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আইডিইবি মিলনায়তনে জোটের পক্ষ থেকে আসন বন্টনের ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ডা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহের।

তিনি বলেন, 'এই আসন কেউ কাউকে দেয়নি। আমরা নিজেরা সমঝোতা করেছি। সমঝোতায় অন্যান্য দলগুলোও সম্মতি দিয়েছে।'

আসন সমঝোতায় জামায়াতকে ১৭৯ আসন, এনসিপিকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ২০টি, খেলাফত মজলিসকে ১০টি, কর্ণেল অলি আহমেদের এলডিপিকে ৭টি আসন বন্টন করা হয়েছে।

এছাড়া এবি পার্টিকে ৩টি, নেজামে ইসলামকে ২টি এবং বিডিপিকে ২টি আসন বন্টন করা হয়। জোটের অন্য দুই শরিক জাগপা এবং খেলাফত আন্দোলনকে আপাতত কোনো আসন দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন জোটে না এলে এই দুইটি দলকে ৩-৪টি আসন দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে জোট সূত্রে।

জামায়াতের নায়েবে আমির হামিদুর রহমান আজাদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। প্রোগ্রামে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, 'এই জোট দেশের মানুষকে দুঃশাসন থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য গঠিত। ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গড়তে আসন্ন নির্বাচনে এই জোটকে নির্বাচিত করতে হবে।'

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান তার বক্তব্যের আগে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে যুবকদের নেতা উল্লেখ করে বক্তব্য দিতে আহ্বান করেন। নাহিদ তার বক্তব্যে বলেন, ' সংস্কার, আজাদি ও গণ অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থে একমত থাকা দলগুলোকে নিয়ে নির্বাচনী সমঝোতা একটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা। এই সমঝোতায় কোনো দলীয় প্রার্থী থাকবে না। যেখানে জোটের প্রার্থী থাকবে তারা সবাই দলীয় প্রার্থী। সব দল মিলে একক প্রার্থীকে সহযোগিতা করবে।'

জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল অলি আহমেদ বলেন, 'লীগ ও বিএনপির শাষণ দেখেছেন। এবার ন্যায়, নিষ্ঠা ও চাঁদাবাজ বিরোধী শাষণ দেখতে অনুরোধ করবো দেশবাসীকে। এবার নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারবেন না। ভারতের দাসত্ব মুক্ত হতে এই জোটকে নির্বাচিত করতে হবে। জনগণকে শাষণ করতে এই জোট না, জনগণের সেবক হতে এই জোট।'

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে ইসলামপন্থী দলগুলোকে একত্রিত করার যে চেষ্টা তা অবশেষে চূড়ান্ত রূপ পেল। এই জোটে কেউ কাউকে আসন দেয়নি। সবাই সমঝোতা করেছে। এই জোট দেশের জনগণকে দুঃশাসনের কবল থেকে মুক্ত করবে। এই জোটের মাধ্যমেই দেশে একটি জনগণের সরকার গঠিত হবে।'

তিনি আরো বলেন, 'জোট এখনো টিকে আছে। এখনো কেউ জোট ত্যাগ করেনি। আমরা আশা করছি শেষ পর্যন্ত এই জোট অক্ষুণ্ণ থাকবে।'

তবে এই জোট অটুট থাকছে না বলেই আভাস দিয়েছেন জোটভুক্ত একাধিক দলের নেতৃবৃন্দ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা এনপিবিকে জানান, 'ইসলামী আন্দোলনকে অনেকভাবে কনভিন্স করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্তও তারা আমাদের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এছাড়া তারা আরেকটি পালটা সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছে বলে জানতে পেরেছি। দেখা যাক তারা কী ঘোষণা দেয়। আমরা কাউকে জোট থেকে বের করবো না। কেউ যদি বের হয়ে যায় সেইটা তাদের সিদ্ধান্ত এবং দায় তাদেরই।'

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X