বৃহস্পতিবার
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত ছাড়াই নতুন জোট গড়তে তৎপর চরমোনাই পীরের দল

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৫ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

গত মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বৈঠক চলে রাজধানীর একটি মাদ্রাসায়।

জামায়াত ৪৫টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি না হওয়ায় করণীয় কী– এ প্রশ্নে শূরার সদস্যদের কাছে মতামত চান চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

২৬৬ আসনে প্রার্থী দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। মজলিসে শূরার অধিকাংশ সদস্য মত দেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে এই প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছেন, তারা নির্বাচন করতে না পারলে ক্ষুব্ধ হবেন। তাই অন্তত ৭০ আসনে নির্বাচন করতে হবে।

শূরার কিছু সদস্য মত দেন, জামায়াতের ছেড়ে দেওয়া ৪০-৪৫ আসনে নয়, এককভাবে নির্বাচন করা উচিত। জামায়াত নবগঠিত এনসিপিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। চরমোনাই পীরকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জোটে থাকা উচিত নয়। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা এসব কথা জানান। তবে এর বিরোধীতাও করেন অনেকে। তারা দাবি করেন এ পর্যায়ে এসে জামায়াত জোট থেকে বের হওয়া ঠিক হবে না।

এ পরিস্থিতিতে দলের আমির শূরা সদস্যদের জানিয়ে দেন, আসন সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতের ডাকা সংবাদ সম্মেলনে যাবেন না।

জোটে থাকা-না থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ মজলিসে আমেলার বৈঠকে। কিন্তু গতকাল অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকেও বিরোধ দেখা দেয়। তাই সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। পরে জানানো হয় জোটে থাকার জন্য তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়নি। বৈঠক সূত্র জানায়, ছয় মাস ধরে একসঙ্গে আন্দোলন এবং ভোটের প্রস্তুতি নেওয়ায় নির্বাচনের প্রাক্কালে জোট ছেড়ে এককভাবে বেরিয়ে যাওয়া উচিত হবে না– এমন মত এসেছে।

বৈঠকের পর দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, চরমোনাই পীরই ইসলামপন্থিদের ভোট এক বাক্সে আনার নীতি ঘোষণা করেছিলেন। পারস্পরিক আলোচনা চলছে। শিগগির ইসলামপন্থিদের ভোট এক বাক্সে আনার নীতির রূপরেখা ও ধরন পরিষ্কার হবে।

বিকল্প জোটের আভাস দিয়ে গাজী আতাউর বলেন, আশা করা হয়েছিল, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের সব স্তরের নেতাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। প্রার্থীদের কথা শোনা হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম বৈঠক থেকে যেসব দলের সঙ্গে শুরু থেকে পথচলা হচ্ছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে।

ইসলামপন্থিদের ভোট এক বাক্সে আনার পরিকল্পনা ঘোষণা করে গত মে মাসে ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত, মাওলানা বাছিত আযাদের খেলাফত মজলিস, নেজামী ইসলাম পার্টি, খেলাফত আন্দোলন এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মোর্চা গঠনের আলোচনা শুরু করে। পরে জমিয়ত চলে যায় বিএনপির জোটে, যুক্ত হয় জামায়াত।

ইসলামী আন্দোলন সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা না হলে দুই খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন এবং নেজামে ইসলামকে নিয়ে প্রয়োজনে বিকল্প জোট হতে পারে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বে।

১১ দল সূত্র জানিয়েছে, ইসলামী আন্দোলনকে সর্বোচ্চ ৪৫টি আসন ছাড়তে রাজি রয়েছে জামায়াত। পাঁচটি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। সেখানে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখা উভয় প্রতীকের প্রার্থী থাকবে। তবে একসময়ে ১৫০ আসন দাবি করা ইসলামী আন্দোলন এখন কমপক্ষে ৬৫টি আসন চায়। আসন সমঝোতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা সংবাদ সম্মেলনে না যাওয়ার বার্তা দেয় জামায়াতকে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X