

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আসন বণ্টনের দ্বন্দ্বে জোট ভাঙলে বিকল্প নির্বাচনী কৌশল কী হবে– তা খুঁজছে জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এনসিপি এবং মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ অন্য দলগুলোকে নিয়ে জোট রক্ষার চেষ্টা চলছে।
ইসলামী আন্দোলন আভাস দিয়েছে, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বাংলাদেশ খেলাফত এবং জোটের অপর তিন ধর্মভিত্তিক দলকে নিয়ে নতুন জোট হতে পারে।
জামায়াতের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, ইসলামী আন্দোলনকে কোনো অবস্থাতেই ৪৫টির বেশি আসন দেওয়া সম্ভব নয়। দলটিকে ৪৫টি আসন দেওয়ার চিন্তা ছিল। কিন্তু গত মাসের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দুদিন আগে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি জোটে যুক্ত হয়। ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফতসহ অন্যান্য দলের সম্মতিতে তাদের জোটে নেওয়া হয়। এই তিন দলকে ৩৮টি আসন দিতে হচ্ছে।
জামায়াতের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, পুরোনো শরিকদের আসন থেকে কিছু ছাড় দিতে অনুরোধ করা হয়েছিল। এনসিপি, এবি, এলডিপির জন্য ইসলামী আন্দোলনের ভাগ থেকে ১২-১৩টি আসন দিতে বলা হয়েছিল। তাতে তারা রাজি হয়নি।
জামায়াত শেষ পর্যন্ত হাতপাখাকে ৪৫টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু তারা ৬৫ থেকে ৭০টি আসনের দাবিতে অনড়, যা পূরণ করা সম্ভব নয়। ফলে তারা যদি চলে যায়, জামায়াতের কিছু করার নেই।
জামায়াতের আরেকজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, তাদের দলীয় জরিপ অনুযায়ী, ইসলামী আন্দোলন সাংগঠনিকভাবে গোছানো হলেও সারাদেশে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে। সে তুলনায় অনেক বেশি আসন ছাড়া হয়েছে দলটিকে। জামায়াতের জরিপ অনুযায়ী, এনসিপির জনসমর্থন ৭ শতাংশ।
দলটিকে দেওয়া হয়েছে ৩০ আসন, যা তারা মেনে নিয়েছে। এ অবস্থায় ইসলামী আন্দোলন চলে গেলে বাংলাদেশ খেলাফত, এনসিপিকে নিয়ে জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেবে। প্রয়োজনে মামুনুল হকের দলকে আরও কিছু আসন ছাড়বে।
নির্বাচনে ২৭৬ আসনে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। এনসিপির জন্য ৭, বাংলাদেশ খেলাফতের জন্য ৮, খেলাফত মজলিসের জন্য ৪, বিডিপি ও এবি পার্টির জন্য দুটি করে আসনে প্রার্থী দেয়নি জামায়াত। এলডিপির জন্য একটি আসনে প্রার্থী দেয়নি।
মামুনুল হকের দলের জন্য যে ৮ আসনে প্রার্থী দেয়নি জামায়াত, এর দুটিতে অন্য জোট সঙ্গীর প্রার্থী রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ খেলাফত জোট ছাড়লে ছয়টি আসনে শেষ পর্যন্ত জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থীই থাকবে না। এ বাস্তবতা ছাড়াও হেফাজতে ইসলাম যাতে প্রতিপক্ষ না হয়, সে জন্য মামুনুল হকের দলকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে জামায়াত।
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, সমঝোতা যাতে বজায় থাকে সে জন্যই জামায়াত সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করেছে। আলোচনায় সব সমাধান হয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন

