বৃহস্পতিবার
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী আন্দোলন ৭০ আসন চায়, জামায়াতকে ১৫০’র বেশি নয়

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
চরমোনাই পীর ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
expand
চরমোনাই পীর ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

গত কয়েকদিন দফায় দফায় আলোচনা হলেও জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বুধবার সংবাদ সম্মেলন ডেকেও স্থগিত করেছে ১১ দল।

জামায়াতসহ ১১ দল নিয়ে যে যৌথ আসন বণ্টনের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল, সেটিও স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার রাত পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় বিকেলে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে জামায়াত।

রাজনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দুই দলই এখন নিজ নিজ কৌশল নতুন করে ভাবছে।

সংবাদ সম্মেলন বাতিলের কারণ জানতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সমঝোতা আলোচনার সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, কিছু প্রস্তুতির ঘাটতি থাকায় অনুষ্ঠানটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নতুন তারিখ জানানো হবে।

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে জোটগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যারা এককভাবে এটি আহ্বান করেছিল, তারাই স্থগিত করেছে। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে এর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

দলীয় সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন ৫০টির বেশি আসনে প্রার্থী দিতে আগ্রহী। সর্বশেষ আলোচনায় জামায়াত ৪৫টি আসন ছাড় দিতে সম্মত হলেও ৫টি আসন উন্মুক্ত রাখতে চায়, যেখানে জোটভুক্ত সব দল প্রার্থী দিতে পারবে। তবে ইসলামী আন্দোলন মোট আসনের অন্তত ১০ শতাংশ-প্রায় ৩০টি আসন-উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে, যা জামায়াত গ্রহণ করেনি।

ইসলামী আন্দোলনের ধারণা, জামায়াত যদি ১৯০টি আসনে নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে তারাও ৬০ থেকে ৭০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পথে এগোবে।

সমঝোতা ব্যর্থ হলে ইসলামী আন্দোলন বিকল্প জোট বা নতুন সমঝোতার দিকে যেতে পারে- এমন ইঙ্গিতও মিলছে।

দলটির একাধিক সূত্র জানায়, তারা নতুন করে আটটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। এর মধ্যে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলভুক্ত ৬টি দল রয়েছে-বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, এবি পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)। পাশাপাশি বাংলাদেশ লেবার পার্টির সঙ্গেও যোগাযোগ চলছে।

ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, জামায়াতকে ১৫০ আসনে সীমিত রাখার প্রস্তাবে রাজি করানো গেলে নতুন করে সমঝোতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ অন্য দলগুলোকেও আলোচনায় রাখতে চায় তারা।

বুধবার বিকেলে গাজী আতাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি, ভোট হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। এই সময়ের মধ্যে অনেক কিছুই বদলাতে পারে। আলোচনা এখনো চলমান।

জামায়াত–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন শুধু আসনসংখ্যা নয়, সরকার গঠনের সুযোগ এলে সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান কে হবেন-এ বিষয়েও আগাম স্পষ্টতা চাইছে। জামায়াত মনে করছে, এখনই এসব বিষয় নির্ধারণের সময় হয়নি।

ইসলামী আন্দোলনের অনড় অবস্থান বজায় থাকলে তাদের ছাড়া অন্য দলগুলোকে নিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত করার বিকল্পও ভাবছে জামায়াত। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য দল কিছু অতিরিক্ত আসন পেতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।

তবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইসলামী আন্দোলন যদি ক্ষোভ ভুলে আলোচনায় ফিরতে চায়, জামায়াত অপেক্ষা করতে প্রস্তুত।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে রামপুরার একটি মাদ্রাসায় ইসলামী আন্দোলনের শুরা কাউন্সিলের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। সেখানে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ইসলামী আন্দোলনের দাবি, গণ-অভ্যুত্থানের পর তারাই প্রথম ‘ওয়ান বক্স’ নীতির প্রস্তাব দেয়- এক আসনে এক প্রার্থী। শুরুতে কয়েকটি ইসলামপন্থী দল এতে যুক্ত হলেও পরে জামায়াত, জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি এতে অংশ নেয়।

দলটির অভিযোগ, কিছু সিদ্ধান্ত জামায়াত এককভাবে নিয়েছে, যা অন্য শরিকদের জানানো হয়নি। বিশেষ করে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টির সঙ্গে আলাদা বৈঠক করায় অসন্তোষ তৈরি হয়।

শুরা কাউন্সিলের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় গতকাল দুপুরে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিসে আমেলার বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে দলটি জানায়, আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X