রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আসন সমঝোতায় নমনীয় জামায়াত, মঙ্গলবার চূড়ান্ত ঘোষণা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
এনপিবি গ্রাফিক্স
expand
এনপিবি গ্রাফিক্স

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ১১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানা আলোচনা ও দরকষাকষি চলছে। আলোচনার এই প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে।

ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র জানায়, সমঝোতার স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী প্রায় ১১০টি আসন ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে। দলটি মোটামুটি ১৯০টি আসনে নিজেদের প্রার্থী রাখার পরিকল্পনা করছে এবং বাকি আসনগুলো জোটের শরিকদের মধ্যে বণ্টনের পথে এগোচ্ছে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ জরিপের ভিত্তিতে জামায়াত ১৭০টি আসনকে নিজেদের জন্য ‘অপরিহার্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব আসনে অন্য কোনো দলকে ছাড় না দেওয়ার অবস্থানে রয়েছে তারা।

পাশাপাশি আরও ২০টি আসন নিয়ে পর্যবেক্ষণ চলছে, যেগুলোতেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা সম্ভব নয়—এমন বিবেচনায় জামায়াত প্রার্থী রাখার পক্ষে দলটি অনড় রয়েছে।

যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি, তবে সর্বশেষ আলোচনায় ১১ দলের মধ্যে একটি প্রাথমিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবিত বণ্টন অনুযায়ী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেতে পারে প্রায় ৪০টি আসন, এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৫টি, খেলাফত মজলিস ৭টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৪টি, এবি পার্টি ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি আসন।

তবে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন ৪০টির বাইরে আরও কিছু আসন দাবি করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই দাবিকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। অতিরিক্ত যেসব আসন চাওয়া হচ্ছে, সেগুলোর কিছুতে জামায়াত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেরও প্রার্থী রয়েছে।

জনপ্রিয়তা ও প্রার্থীর শক্তিমত্তা বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনকে আরও কয়েকটি আসনে ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।

এবি পার্টিকে দেওয়া তিনটি আসনের মধ্যে ফেনী-২ আসনে দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং বরিশাল-৩ আসনে সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া (ফুয়াদ) প্রার্থী হয়েছেন। এই দুই আসনে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি। তবে পটুয়াখালী-১ আসনে এবি পার্টির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার প্রার্থী হলেও সেখানে জামায়াতের একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সমঝোতা চূড়ান্ত হলে ওই প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেন।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে দেওয়া দুটি আসনের মধ্যে ময়মনসিংহ-৯ আসনে দলের চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলা-৩ আসনে মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম নির্বাচনে অংশ নেবেন।

এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। এসব দল এক বা দুইটি আসন পেতে পারে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমাদের মধ্যে এখনো কিছু বিষয়ে বোঝাপড়া বাকি রয়েছে। শিগগিরই আরেক দফা বৈঠক হবে। সেখানেই আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত করে জানানো হবে।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X