

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


উৎসব আর আনন্দ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘নববর্ষ-১৪৩৩’। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বর্ণাঢ্য আয়োজনে দিনটি উদযাপন করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে দলটির উদ্যোগে বৈশাখী শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানানো হয়। দীর্ঘদিন পর এমন প্রকাশ্য উৎসব আয়োজন করতে পেরে এটিকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন নেতাকর্মীরা ।
দলটির একাধিক নেতা জানান, আওয়ামী লীগের সময়ে মামলায় জর্জরিত ছিলো বিএনপির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের সময় পার করতে হতো গ্রেফতার আতঙ্কে। তাই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে এ ধরনের আয়োজন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংগঠনিক শক্তি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই বিভিন্ন যায়গায় বৈশাখ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, গত ১৭ বছর পহেলা বৈশাখের সময় বিএনপি নেতাদের কারাগারেই থাকতে হয়েছে। তখন অনেক নেতারা কারাগারে থাকার কারণে সেখানে তাদের মধ্যে এক ধরনের উৎসব বিরাজ করতো। বৈশাখ কেবল উৎসব নয়, এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক যা রাজনীতির ঊর্ধ্বে।
এদিকে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিদায় ১৪৩২। স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। পহেলা বৈশাখ- বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। এ উপলক্ষ্যে আমি দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণী পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলি সপু এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘গত ১৭ বছর পান্তা ইলিশ তো দূরেরর কথা ঘরে ভাতই খেতে পারিনি। আওয়ামী লীগের আমলে আমার নামে প্রায় তিন শতাধিকের মতো মামলা হয়েছে। ১২ থেকে ১৩ বার জেলে যেতে হয়েছে। অসংখ্য পহেলা বৈশাখ কারাগারে কাটাতে হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের দিনে পরিবারের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ থাকলেও সেটা থেকে বঞ্চিত করা হতো। খাবার নিয়ে পরিবারের লোকজন দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে খাবার দিয়ে যেত সেই খাবার আমাদেরকে না দিয়ে ফেলে দেয়া হতো।’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পরে এবারের বৈশাখ উদযাপন অনেক আলাদা। বিগত স্বৈরাচারের আমলে কোথাও গিয়ে নির্ভয়ে দাঁড়ানো যায়নি। পুলিশ প্রশাসনে ধরে নিয়ে যাওয়ার যে আতঙ্ক ছিল এবার উৎসব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ভয় বা আতঙ্ক নেই।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘এবার স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশের মানুষ উদযাপন করছে। ভয়, আতঙ্কহীন পরিবেশে দেশের মানুষ বসবাস করতে চায়। দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপি নেতা কর্মীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে জীবন যাপন করেছে। এখন সেই সংস্কৃতির অবসান ঘটেছে।’
মন্তব্য করুন
