শনিবার
৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি নিয়ে দুঃসংবাদ দিলো আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক না থাকলে চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমেই বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।

শুক্রবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলোর প্রধানরা জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেলের মজুদ দ্রুত কমে যাচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা বাড়ার আগেই মজুদ ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

তারা আরও বলেন, জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি সরবরাহ, বাজার স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের জেরে ইরান আঞ্চলিকভাবে পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

এর আগে এপ্রিল মাসে এই তিন সংস্থা সংকট মোকাবিলায় দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর সহায়তায় যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। সর্বশেষ বিবৃতিতে তারা জানায়, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও সারের দাম বাড়ছে, যা সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করছে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ওপর।

বিশেষ করে সারের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, কারণ অনেক দেশেই বর্তমানে কৃষিকাজের মৌসুম চলছে। এতে খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা পূর্বে জানিয়েছেন, এই সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংকটে থাকা দেশগুলোর জন্য ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে, আইএমএফ জানিয়েছে—বাংলাদেশ আর্থিক সহায়তার জন্য একটি প্যাকেজ চেয়েছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।

সার্বিকভাবে, এই পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশই এর মধ্যে পড়ছে।

একই সঙ্গে সারের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় আমদানিনির্ভর দেশগুলো নতুন সংকটে পড়েছে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন