

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভোলার দৌলতখান উপজেলায় যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল দিতে না পারায় ফিমা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৯ মে) সকালে উপজেলার চর খলিফা ইউনিয়নের কলাকোপা গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী সজিবসহ পরিবারের সব সদস্য পলাতক রয়েছেন।
নিহত ফিমা আক্তার জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালামের মেয়ে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে দৌলতখানের কলাকোপা গ্রামের সজিবের সঙ্গে ফিমার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই একটি মোটরসাইকেলের জন্য ফিমার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। প্রায় দেড় বছর আগে স্বামী সজিব মোটরসাইকেল দাবি করলে ফিমার পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে তা দিতে পারেনি। এরপর থেকেই ফিমার ওপর শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
মেয়ের মরদেহের পাশে আহাজারি করে নিহতের মা তাছনুর বেগম বলেন, 'আমরা গরিব মানুষ, মোটরসাইকেল দিতে পারিনি। তাই তারা আমার মেয়েকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।'
নিহতের ভাই মো. শিপন জানান, ঈদের দিন রাতেও ফিমা তার মা ও ছোট বোনের সঙ্গে ফোনে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছে। কিন্তু রাত চারটার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে জানানো হয় ফিমা অসুস্থ। সকালে গিয়ে তারা ঘরের মেঝেতে বোনের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন, তবে সে সময় ওই বাড়িতে শ্বশুরবাড়ির কেউ ছিল না।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে দৌলতখান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং মরদেহ উদ্ধার করে।
দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে ঘরে কাউকে পাওয়া যায়নি। নিহতের নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল, যা থেকে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।"
তিনি আরও জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।