

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


উৎসব আর আনন্দ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে ‘নববর্ষ-১৪৩৩’। দেশের কারাগারগুলোতেও এই উৎসব (পহেলা বৈশাখ) ঘিরে দেখা গিয়েছে বিশেষ আয়োজন। ফলে প্রাণের এই উৎসব আয়োজন থেকে বঞ্চিত হননি জেলখানায় থাকা বন্দিরা।
বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী আছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ডজনখানেক সাবেক মন্ত্রী, অর্ধশতাধিক সাবেক এমপিসহ অসংখ্য নেতাকর্মী। তারাও নববর্ষের আয়োজনে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার, কাশিমপুর কারাগারে থাকা বন্দিদের স্বজন ও কারা কর্তৃপক্ষ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
কারা কর্তৃপক্ষ আজ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করেছে প্রায় সব কারাগারে। শুধুমাত্র বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে সাবেক মন্ত্রী এবং এমপিরা অবস্থান করায় সেখানে আলাদা কোনো বিশেষ আয়োজন করা হয়নি। ঢাকা বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারে সাবেক মন্ত্রীদের মধ্যে রাশেদ খান মেনন, শাজাহান খান, হাসানুল হক ইনু, আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান, টিপু মুনশি, জুনায়েদ আহমেদ পলক, ফরহাদ হোসেন, আসাদুজ্জামান নূর, মাহবুব আলী, নূরুল ইসলাম সুজন, জাহিদ ফারুক শামীম গ্রেফতার অবস্থায় রয়েছেন। সাবেক এমপিদের মধ্যে রয়েছেন তানভীর ইমাম, সোলায়মান মোহাম্মাদ সেলিম, গোলাম কিবরিয়া টিপু ও রাগেবুল আহসান রিপু। এছাড়াও আরো অনেক কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রয়েছেন এ কারাগারে।
কারাগারের বন্দীদের দেখা করার সেলে গিয়ে দেখা যায় প্রচন্ড ভীড়। সেখানে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার উপায় নেই। চিৎকার চেঁচামেচি করে সবাই কথা বলছেন।
সেখানে দেখা হলো ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাঈমের সঙ্গে। তিনি এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘আমাদের জন্য দোয়া করবেন। রাজনৈতিক কারণে জেলে আছি। এর আগে বিএনপি জামায়াতের নেতারা জেলে ছিলেন, এখন আমরা আছি। আবার হয়তো কোনোদিন অন্যরা থাকবে। আমরা কষ্ট মেনে নিয়েই জেলে সবাই মিলেমিশে আছি। আজকে অন্যান্য দিনের চেয়ে ভালো খাবার দিয়েছে। জেলে নরমালি ভালো খাবার দেয় না। আজকের খাবার ভালো ছিল।’
জানতে চাইলে বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. তায়েফ উদ্দিন মিঞা এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘আমাদের কারাগারে ২২৮ জন বন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে রয়েছেন ১২৪ জন বিশেষ ডিভিশন প্রাপ্ত বন্দী। তাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিশেষ কোনো আয়োজন করা হয়নি। তবে ইমপ্রুভ ডায়েটের ব্যবস্থা ছিল। সাধারণ কিংবা বিশেষ, নির্বিশেষে সবার জন্য স্পেশাল খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায়।’
আজকের মেন্যুতে কী কী ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সকালে পান্তা ভাতের সঙ্গে ইলিশ মাছ, আলুভর্তা, পেঁয়াজ, মরিচের ব্যবস্থা ছিল। দুপুরের আয়োজনে ছিল পোলাও, গরুর মাংস, রোস্ট, সালাদ, মিষ্টি এবং পান সুপারি। যারা গরু খান না তাদের জন্য ছিল খাসীর মাংস। রাতের জন্য সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা, ডিম ভূনার ব্যবস্থা রয়েছে।’
দেশের অন্যতম বৃহৎ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ এনপিবি নিউজকে জানান, ‘অন্যান্য দিনের চেয়ে আজকে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে জেলখানার ভিতরে। এতে কারাগারের বন্দীরা নিজেরাই পারফর্ম করবেন। পাশাপাশি খেলাধুলার আয়োজন করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘শুধুমাত্র কারারক্ষীদের জন্য সীমিত পরিসরে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন স্টল দেওয়া হয়েছে। আর অন্যান্য জেলখানার মত বন্দীদের সকলের জন্য একই মেন্যুতে খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। বন্দীদের পরিবারের সঙ্গে আজ দেখা করার ব্যবস্থা করেছি আমরা।’
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সেক্রেটারি তানভীর হাসান সৈকতের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তার পরিবারের তিন সদস্য। নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তাদের একজন বলেন, ‘প্রায় দুই বছর হয়ে গেল ছেলেটা জেলে। শারীরিক কিছু অসুস্থতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে স্পেশাল সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সুযোগে বাসার রান্না করা কিছু খাবার নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু তা দিতে দেয়নি। শুনলাম ভিতরেই (কারাগারে) ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
কেমন কাটছে তাদের বৈশাখ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভিতরে (কারাগারে) যারা ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগের যারা রয়েছেন তারা একসঙ্গে গল্প-গুজব করে সময় কাটাচ্ছেন। বিশেষ খেলাধুলার ব্যবস্থায় তারা কেউ কেউ খেলাধুলা করেছেন বলে জানতে পেরেছি।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘আমাদের এখানে আলোচিত কোনো বন্দী নেই। তবে জেলা পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী জেলে রয়েছেন। তাদের কেউ কেউ ডিভিশন প্রাপ্ত। তারা একে অপরের সঙ্গে আড্ডা এবং গল্পগুজবে সময় কাটিয়েছেন। বিশেষ খাবার খেয়েছেন সবাই। পাশাপাশি কারারক্ষীদের সঙ্গে আজ সৌহার্দমূলক আচরণ করেছেন তারা।’
তিনি আরও বলেন, ‘বন্দীদের মধ্যে থেকেই সাংস্কৃতিক আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা সেখানে গান, নাচ, কবিতা আবৃত্তি, কৌতুক পরিবেশন করেছেন। কারা অভ্যন্তরে বিশাল মাঠে ফুটবল, কাবাডি খেলার আয়োজন করেছেন বন্দীরা। এভাবেই আনন্দঘন পরিবেশে আজকের দিন অতিবাহিত করবেন বন্দীরা।’
মন্তব্য করুন
