রবিবার
২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরিত্র আর জনআস্থার বন্ধনেই গড়ে উঠুক নেতৃত্ব

জে আই জাহিদ
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৮ এএম
এআই দ্বারা তৈরিকৃত ছবি
expand
এআই দ্বারা তৈরিকৃত ছবি

রাষ্ট্রের শক্তি কেবল তার অর্থনীতি, অবকাঠামো কিংবা প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে সিমাবদ্ধ থাকে না; বরং সেই রাষ্ট্র কতটা নৈতিক, ও জনকল্যাণমুখী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পেরেছে—সেখানেই নির্ধারিত হয় তার সাফল্য। আর এই নেতৃত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলেন জনপ্রতিনিধিরা। কারণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি কেবল একটি পদে অধিষ্ঠিত হন না, বরং তিনি হয়ে উঠেন মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বিশ্বাস এবং ভবিষ্যতের প্রতিনিধি।

জনপ্রতিনিধি থেকে জনগণের চাওয়া:

ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনপ্রতিনিধি সেই ক্ষমতার একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক মাত্র, এমনটাইতো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য! আর তাই জনপ্রতিনিধির পরিচয় ক্ষমতার প্রদর্শনে চিরিত্রহীন ও দাপট নয়, বরং ক্ষমতার সংযত ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবহারেই একজন জনপ্রতিনিধির পরিচয়। তার প্রতিটি সিদ্ধান্তে থাকতে হবে জনস্বার্থের প্রতিফলন, প্রতিটি পদক্ষেপে থাকতে হবে সততা, আর প্রতিটি আচরণে ফুটে উঠতে হবে এক আকাশ পরিমাণ ভালোবাসা ও মানবিকতা।

একজন জনপ্রতিনিধিকে চরিত্রের দৃঢ়তা থেকেই জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন। কারণ চরিত্রহীন নেতৃত্ব কখনো সুস্থ সমাজ গঠন করতে পারে না এটা আজকের প্রজন্ম খুব ভালো করেই জানে। একজন জনপ্রতিনিধিকে সবার আগে মাথায় রাখতে হবে যে, ব্যক্তিগত জীবনে অসততা, দুর্নীতি, অনৈতিক সম্পর্ক, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা স্বজনপ্রীতি—এসব কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেয়।

যে মানুষটাকে সমাজের এতো মানুষের ভিড়ে অভিবাভক বানালো জনতা, সেই মানুষটাকে মনে রাখতে হবে, বর্তমান সমাজ শুধু উন্নয়ন নয়, ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন চায়। সেই উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের প্রতিটি মানুষ সমানভাবে পায় সেদিকেই লক্ষ রাখা উচিৎ প্রতিটি প্রতিনিধির।

জনপ্রতিনিধি বনাম সমাজ:

রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রেও কোন আপস নয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে থেকে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার করা শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশ সংরক্ষণ, নারীর নিরাপত্তা, তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা—এসবই একজন জনপ্রতিনিধির থেকে এই সবকিছুই আশা করে আজকের সমাজের মানুষ। মানুষ চায়, তিনি এমন একটি সমাজ গড়ার চেষ্টা করবেন, যেখানে একজন নাগরিক তার পরিচয়, ধর্ম, মত কিংবা অর্থনৈতিক অবস্থানের কারণে বৈষম্যের শিকার হবে না।

জনগণের দায়িত্ব:

তবে রাষ্ট্র গঠন কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়। নাগরিকদেরও তাদের সঠিক দায়িত্ব সামাজিক মূল্যবোধসহ রাষ্ট্রিয় রীতিনীতি মেনে চলা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন থাকা। কিন্তু জনগণকে এই পথে উদ্বুদ্ধ করার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধির। কথায় আছে, একজন নেতা যেমন হবেন, সমাজও ধীরে ধীরে তেমন হওয়ার চেষ্টা করবে।

আস্থা হারাচ্ছে জনতা

আজ যখন জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সামাজিকমাধ্যমগুলোতে নানান আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে, তখন জনগণের মনে একটাই প্রশ্ন একটাই— মানুষ এমনও হতে পারে? মূলত জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্রিয় বিধি-নিষেদ ও সামাজিক প্রথা মেনে রাষ্ট্রগঠণে কাজ করলেও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েকজনের কার্যকলাপে মানুষ আস্থা হারাচ্ছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে যে, যিনি ক্ষমতাকে নিজের মর্যাদার প্রতীক ভাবেন তিনি আমাদের প্রতিনিধি, নাকি এমন একজন, যিনি ক্ষমতাকে আমাদের সেবা করার দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন!

মনে রাখা ভালো, একটি সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় তার উঁচু দালান কিংবা প্রশস্ত মহাসড়কে নয়; বরং তার নেতৃত্বের সততা, ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং জবাবদিহিতায়। তাই আমাদের প্রয়োজন এমন জনপ্রতিনিধি, যিনি পদকে সম্মানিত করবেন নিজের কর্মে; যিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেবেন; যিনি চরিত্র, সততা ও নৈতিকতার আলোয় সমাজকে পথ দেখাবেন। কারণ- ইতিহাস শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাবানদের নয়, মানুষের জন্য কাজ করা সৎ নেতাদেরই মনে রাখে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন