শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনীতির লক্ষ্য কী: ক্ষমতা, নাকি জনগণের আস্থা?

জে আই জাহিদ
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
এআই দিয়ে তৈরি ছবি।
expand
এআই দিয়ে তৈরি ছবি।

একটি রাষ্ট্রের রাজনীতি তখনই সফল বলা যায়, যখন তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য ক্ষমতা অর্জন নয়; বরং একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। যেখানে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উন্নত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং মানুষ আস্থার সঙ্গে আগামী দিনের স্বপ্ন দেখতে পারবে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—বর্তমান বাংলাদেশে সেই রাজনীতির প্রতিফলন কতটা দৃশ্যমান?

গত তিন বছরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারাবাহিকভাবে নানা পরিবর্তন, উত্তেজনা, আন্দোলন, সংঘাত এবং ক্ষমতার পটপরিবর্তনসহ নানান অস্থিরতা সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও, যখন তার প্রভাব মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে, তখন উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

আজ দেশের বহু মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। ব্যবসায়ী বিনিয়োগের আগে দ্বিধায় থাকেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন ও চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হন, চাকরিজীবীরা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা যখন অর্থনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে, তখন তার সবচেয়ে বড় মূল্য দেয় সাধারণ নাগরিক।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষের মানসিক নিরাপত্তা। উন্নয়ন শুধু সেতু, মহাসড়ক বা উঁচু ভবন নির্মাণের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। একটি রাষ্ট্র তখনই প্রকৃত অর্থে উন্নত হয়, যখন নাগরিকেরা নির্ভয়ে মত প্রকাশ করতে পারেন, আইনকে সমানভাবে কার্যকর দেখতে পান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্ক নয়, আত্মবিশ্বাস অনুভব করেন।

যেখানে দেশের তরুণ সমাজ সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু যদি তারা রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা এবং বিভক্তির পরিবেশে বড় হয়, তাহলে একটি উন্নত জাতি গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। তরুণদের প্রয়োজন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, গবেষণার পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যা তাদের দেশেই সম্ভাবনার ভবিষ্যৎ দেখতে শেখায়।

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ভিন্নমতের প্রতি সম্মানে। সরকার, বিরোধী দল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজ—সবাই যদি, সহনশীলতা ও আইনের শাসনকে প্রাধান্য দেয়, তাহলে রাজনৈতিক মতভেদ কখনোই জাতীয় সংকটে রূপ নেবে না। ক্ষমতার পরিবর্তন হতে পারে, মতের অমিল থাকতে পারে; কিন্তু রাষ্ট্রের স্বার্থ, জনগণের নিরাপত্তা এবং জাতীয় ঐক্য সব সময় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে থাকা উচিত।

আজ সময় এসেছে আত্মসমালোচনার। রাজনীতি কি সত্যিই মানুষের জীবনমান উন্নত করছে, নাকি মানুষের মনে ভয়, অনিশ্চয়তা ও বিভাজন বাড়িয়ে দিচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে সব রাজনৈতিক শক্তিকেই। কারণ একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র কেবল সরকার দিয়ে নয়, দায়িত্বশীল বিরোধী দল, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে।

বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনার দুয়ার এখনো উন্মুক্ত। বিএনপি সরকার গঠণের পর পরই একের পর উদ্যোগ নেয়ার ফলে, দেশের তরুণ জনশক্তি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং উন্নয়নের সক্ষমতা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি বাস্তবায়নের দিকে, যেখানে ক্ষমতার চেয়ে দেশ বড়, দলীয় স্বার্থের চেয়ে জনগণের কল্যাণ বড় এবং প্রতিহিংসার চেয়ে জাতীয় স্বার্থ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর প্রধানমন্ত্রীর এই আশা যদি বাস্তবায়ন হয় তবে দেশ গঠনের রাজনীতি কখনো মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি করবে না; বরং আশা জাগাবে চূড়ান্ত পর্যায়ে। এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক দেশের সকল মানুষের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

-জে আই জাহিদ, লেখক ও সাংবাদিক

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Norway VS England
Scheduled
12 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup