

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো-২ সার্কেল কার্যালয়ে ঘুস ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুদকের জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় দুদকের সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টা ছদ্মবেশে বিআরটিএ কার্যালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় এক আনসার সদস্যকে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সেবাপ্রত্যাশীর ড্রাইভিং লাইসেন্স করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে শনাক্ত করা হয়।
দুদক জানায়, ওই আনসার সদস্য টাকা বিকাশের মাধ্যমে লেনদেনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরে তাকে বিআরটিএর উপপরিচালকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে অভিযোগের বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানিয়েছে দুদক।
পরে তার মোবাইল ফোন ও বিকাশের তথ্য যাচাই করে দুদক। এতে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পারে সংস্থাটি। এ ঘটনায় ওই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস ভট্টাচার্য বলেন, বিআরটিএর ইকুরিয়া কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা পেতে দালালদের দৌরাত্ম্য ও ঘুস লেনদেনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, কার্যালয়টিতে সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুস আদায়ের মাধ্যমে মাসে এক থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ জড়িত বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস, মালিকানা পরিবর্তন ও নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে সেবাভেদে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়।
এ ছাড়া কার্যালয়ের সামনে গড়ে ওঠা প্রায় ৪৫টি অবৈধ দোকান ও ট্রাকস্ট্যান্ড থেকেও মাসিক ভাড়া ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।


