মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়ক নিরাপত্তায় ব্যয়ের সুফল নিশ্চিত করতে হবে: শেখ রবিউল আলম

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

সড়ক নিরাপত্তায় বিপুল অর্থ ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পগুলোর সুফল বাস্তবে কতটা মিলছে, তা মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হলেও সেসব প্রকল্প থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে না লাগালে সেমিনার ও কর্মশালা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) আয়োজিত ‘সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বিশ্লেষণ করতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনুমানের পরিবর্তে তথ্য-উপাত্তকে গুরুত্ব দিতে হবে। দুর্ঘটনার তথ্য ভবিষ্যতে সড়ক নির্মাণ এবং বড় প্রকল্প গ্রহণের সময়ও কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা কত টাকা ব্যয় করছি, তার হিসাব আছে। কিন্তু অর্জন কতটা হচ্ছে, সে বিষয়ে জনগণের জিজ্ঞাসা আছে। এত ব্যয় করে যা শিখছি, তার বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটি দেখতে হবে।’

সড়ককে শুধু মানুষের চলাচলের মাধ্যম হিসেবে না দেখে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সড়ক নির্মাণের শুরু থেকেই নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে। সড়ক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার আগেই সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ‘রাস্তা পর্যাপ্ত না ভাঙা পর্যন্ত প্রকল্প নেওয়া হবে না’ এ ধরনের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের জন্য একটি বিশেষায়িত বিভাগ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শেখ রবিউল আলম। তার মতে, এই বিভাগের সদস্যদের সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্বে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দীর্ঘমেয়াদে কাজে লাগানো যায়।

দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহার এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, কারও ভুল, স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা দায়িত্বে অবহেলার কারণে মানুষের প্রাণহানি মেনে নেওয়া যায় না। ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকতা বাংলাদেশে খুব ভালো হয়। কিন্তু বাস্তবায়ন করার জায়গায়, শেখার জায়গায় গিয়ে আমরা অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি। এই ধারার পরিবর্তন না হলে খুব বেশি কার্যকর হবে না।’

কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি বলেন, রোড সেফটি শুধু প্রকৌশলগত বিষয় নয়; এর সঙ্গে জনস্বাস্থ্য, সামাজিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিও নিবিড়ভাবে যুক্ত। সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, প্রকল্পের সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি ক্র্যাশ ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা, হালনাগাদ ম্যানুয়াল নিয়মিত কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সওজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধারাবাহিকভাবে পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মশালায় এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, এডিবি, উন্নয়ন সহযোগী, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অব্যাহত সহযোগিতা বাংলাদেশে নিরাপদ ও টেকসই সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশে নিরাপদ ও টেকসই সড়ক নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠায় এডিবি ভবিষ্যতেও সরকারের পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান ফান্ড ফর পোভার্টি রিডাকশনের (জেএফপিআর) অনুদানে ২০২২-২০২৬ মেয়াদে সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর প্রকল্পের পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে সওজের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কারিগরি সহায়তা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রকল্পটির আওতায় সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, ডাটাবেজ তৈরি ও ব্যবস্থাপনা, রোড সেফটি অডিট এবং সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সওজের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

কর্মশালায় এডিবি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ বিভাগ, সওজ, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সমাপনীতে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে নিরাপদ, স্মার্ট ও টেকসই সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank