মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃক্ষরোপণকে টেকসই সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

বৃক্ষরোপণকে টেকসই সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, শুধু চারা রোপণের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, প্রতিটি চারার পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ ও টিকে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গঠিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ সেলের সহায়ক টাস্কফোর্সের তৃতীয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই এটিকে একটি টেকসই সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। সরকারের নির্ধারিত ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালে সারাদেশে মোট ৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ চারা নিজস্বভাবে উৎপাদন এবং প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ চারা নিজস্ব অর্থায়নে সংগ্রহ করে রোপণ ও পরিচর্যার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা নিজ নিজ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চারা রোপণ করছে।

এ ছাড়া এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এনজিও ২৫ লাখ চারা রোপণ করেছে। এসব রোপণের স্থানভিত্তিক তথ্য পাওয়া গেলে তা মূল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগামী ডিসেম্বরে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির চারা রোপণ করা হলে চলতি বছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলেও সভায় জানানো হয়।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে স্থানীয় আবহাওয়া, মাটির গুণাগুণ ও প্রতিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশীয় প্রজাতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ পরিকল্পিতভাবে রোপণ করতে হবে। নদী, খাল, বেড়িবাঁধ, সড়ক ও রেলপথের পাশের উপযোগী জায়গায় বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপিত চারার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে কোনো চারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত তা প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের পরবর্তী চার বছর চারাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার জন্য পৃথক পরিকল্পনা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শামিমা বেগমসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ ও বন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট মো. জামাইল বশীর জেবি, প্রকৌশলী শাহ আদনান মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank