

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুন প্রজন্মকে বই পড়ায় আগ্রহী করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। তিনি বলেছেন, বই শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের চিন্তার শক্তি বাড়ায়, ইতিহাস জানতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতের পথ দেখায়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬-এর পঞ্চম দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বই শুধু আমাদের জ্ঞান দেয় না; বই আমাদের চিন্তার শক্তি দেয়, ইতিহাসকে ধারণ করতে শেখায় এবং ভবিষ্যতের পথ দেখায়। ইতিহাস না জানলে বর্তমানকে বোঝা যায় না, আর বর্তমান না বুঝলে ভবিষ্যতের পথ তৈরি করা যায় না। তাই আমাদের পড়তে হবে, জানতে হবে এবং ভাবতে হবে।’
বইমেলার গুরুত্ব তুলে ধরে আফরোজা খানম বলেন, বইমেলা জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। পাঠাগারও জ্ঞানচর্চার স্থান এবং নতুন প্রজন্মকে বইয়ের সঙ্গে যুক্ত করার অন্যতম মাধ্যম। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই বইমেলার মাধ্যমে বই পড়ার উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম জিয়াউর রহমান। তাঁর রাজনীতি, রাষ্ট্রচিন্তা ও দেশ গঠনের ভাবনা জানতে হলে তাঁর লেখা বই পড়া প্রয়োজন। ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ‘আমার রাজনীতির রূপরেখা’সহ তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থ একটি বিশেষ সময়ের ইতিহাস, তাঁর জীবন ও চিন্তাধারা এবং বাংলাদেশের হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপট বুঝতে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, একটি বই অতীতের দরজা খুলে দেয়, বর্তমানকে বুঝতে শেখায় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। একইভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আফরোজা খানম বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও সংগ্রাম’ বইটি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস জানতে আগ্রহীদের এ ধরনের বই পড়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা ও শুভকামনা জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর নেতৃত্বে একটি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় রয়েছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা, জ্ঞান, দক্ষতা, প্রযুক্তি ও মূল্যবোধসম্পন্ন নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আফরোজা খানম বলেন, ‘শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই হবে না; নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে, বুঝতে হবে, প্রশ্ন করতে হবে এবং পৃথিবীকে জানার চেষ্টা করতে হবে। আর এই জ্ঞান অর্জনের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হলো বই।’
নিজের বাবার লেখা বইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আবেগাপ্লুত খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বাবার এই বইটি যখন আমি পড়ি, তখন মনে হয় বাবা আমার পাশে আছেন। মনে হয়, চারপাশ থেকে বাবা আমাকে দেখছেন।’
অনুষ্ঠানে নিজের বাবার লেখা বই থেকে একটি অংশ পাঠ করেন খাদ্যমন্ত্রী। সেখানে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর মেজর জিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ওই সময় একজন সৎ, নির্ভীক ও দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়কের প্রত্যাশা মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাধারণ জীবনযাপন করতেন, বিলাসিতা পছন্দ করতেন না এবং সাধারণ মানুষের উন্নতির কথা ভাবতেন বাবার লেখার উদ্ধৃতি দিয়ে এসব বিষয়ও তুলে ধরেন আফরোজা খানম। তাঁর সততা ও সাদাসিধে জীবনযাপনের বিভিন্ন স্মৃতিও তিনি অনুষ্ঠানে স্মরণ করেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ক্রান্তিকালে একটি পরিবারের তিনজন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দেশকে বিপর্যয় থেকে রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের জন্য ১০০টি বই উপহার দেন খাদ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ড. মাহাদী আমীন। তিনি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জ্ঞানার্জন ও মননশীলতা বিকাশে বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্সের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি, মাহামুদা হাবিবা এমপি, অধ্যাপক ড. হারুন আল রশিদ ও সাঈদ মাহমুদ জুয়েল।


