

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি। বৈঠকে দুই দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক পরিবেশগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় করেন মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত।
নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এ শোকাবহ সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ নেপালের পাশে রয়েছে উল্লেখ করে প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল জলবায়ু পরিবর্তনের ভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মুখে থাকলেও দুই দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। হিমালয় অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহের পরিবর্তন, নদী অববাহিকার পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও অন্যান্য জলবায়ুজনিত দুর্যোগ পুরো দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ এবং মানুষের জীবন-জীবিকায় প্রভাব ফেলে।
আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে এসব অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন পরিবেশমন্ত্রী।
নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন উদ্যোগে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
নেপালের দুর্ঘটনার পর দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, সংকটের সময়ে বাংলাদেশের এই সহমর্মিতা দুই দেশের জনগণের গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন। নেপালের সরকার ও জনগণ এ সহযোগিতাকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
বৈঠকে পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হলে উভয় দেশের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মত দেন তারা।
পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানো দক্ষিণ এশিয়ায় সবুজ ও টেকসই উন্নয়ন অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও বৈঠকে মত প্রকাশ করা হয়।
এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম উপস্থিত ছিলেন।


