

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে আধুনিক বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও এ বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ড. আনোয়ার হোসেন অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি বিজ্ঞানী সংঘ (বায়েসা) কর্তৃক আয়োজিত ‘বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রায়োগিক সক্ষমতা সমৃদ্ধিকরণে করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পরমাণু প্রযুক্তি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়; খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, ক্যান্সার চিকিৎসা, শিল্প ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও এর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণাকে উৎসাহিত করে স্টার্টআপ ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সহযোগিতা করা হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করে নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করেই প্রকল্পটি চালু করা হবে। কোনো বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে এর নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যথাযথভাবে যাচাই করেই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বিজ্ঞান সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ও তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, পারমাণবিক প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণাবান্ধব নীতির আওতায় পারমাণবিক বিজ্ঞানকে ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক গবেষণার সঙ্গে সমন্বিত করে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ফান্ড ফর ফান্ডস দিয়ে তরুণ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কিভাবে সহযোগিতা করা যায় সেটা আমরা ভাবছি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ নিউক্লিয়ার মেডিসিনের গুরুত্ব তুলে ধরে তারা বলেন, চিকিৎসাক্ষেত্রে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের সেবা চালু থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে এর সুফল আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
মতবিনিময়ে সভায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বিদ্যমান মেধা, দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে গবেষণা, উদ্ভাবন ও জনসেবার পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড.এম মঈনুল ইসলাম, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড.সারোয়ার হোসেন, মো. হাসিনুর রহমান, সদস্য(পরিকল্পনা), বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আলী জুলকারনাইন, বাপশক এর সাবেক পরিচালক ডা.ফারিয়া নাসরিন, প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি বিজ্ঞানী সংঘের (বায়েসা) সাধারণ সম্পাদক এবং পরিচালক, আইএনজিএস, এইআরই ড. মো. গোলাম রসুল।
মতবিনিময় সভায় রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড.হুমায়ুন কবীর, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পরিচালকবৃন্দ, সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞানীবৃন্দসহ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি বিজ্ঞানী সংঘ (বায়েসা)-এর বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকাশনা ও মুখপত্র 'অন্বেষা' এর মোড়ক উন্মোচন করেন।


